কৃষি গবেষণায় অগ্রগতি: মার্কিন সফরে ড. রাধেশ্যাম সরকার
আমেরিকা ও কানাডা সফরকালে বাংলাদেশের কৃষি খাতের অভূতপূর্ব সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেছেন গবেষক ড. রাধেশ্যাম সরকার। স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ধান ও সবজি উৎপাদনে দেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশি গবেষক ও কৃষিবিদ ড. রাধেশ্যাম সরকার সম্প্রতি আমেরিকা ও কানাডার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সফর করেছেন। এই আন্তর্জাতিক সফরে তিনি বাংলাদেশের কৃষি খাতের দীর্ঘ পথপরিক্রমা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর এই সফর দেশের কৃষি কূটনীতি ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
সফরের অংশ হিসেবে ড. রাধেশ্যাম সরকার শিকাগো, ওয়াশিংটন, ইন্ডিয়ানা এবং টরন্টো পরিদর্শন করেন। এসব স্থানে তিনি বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থার রূপান্তর নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে পারডু বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য উন্নত প্রতিষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের কৃষির অগ্রগতির বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন।
আলোচনাকালে তিনি বাংলাদেশের কৃষির ঐতিহাসিক পটভূমি ও বর্তমান অর্জন তুলে ধরেন। ড. রাধেশ্যাম সরকার উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার শুরুতে দেশে ধান উৎপাদন ছিল মাত্র প্রায় এক কোটি টন। প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সীমিত প্রযুক্তির মধ্যেও এ দেশের কৃষক ও গবেষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ এই খাতে বিশাল পরিবর্তন এসেছে।
পরবর্তীতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে দেশের কৃষি খাত এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের মোট চাল উৎপাদন চার কোটির বেশি টনে উন্নীত হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুধু ধান উৎপাদনই নয়, দেশের অন্যান্য কৃষি পণ্যের উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যের আলোকে জানা যায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে দেশে সবজি উৎপাদন প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এই প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের এই কৃষি সাফল্যের স্বীকৃতি মিলছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বা এফএও-এর ২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের মোট ধান উৎপাদন প্রায় ৬.২ কোটি টনে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২.৪ শতাংশ বেশি। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এই পূর্বাভাস দেশের ক্রমবর্ধমান উৎপাদনশীলতার সাক্ষ্য দেয়।
সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশীয় কৃষির সাফল্য নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই গবেষক। এ সময় তিনি দৃঢ়কণ্ঠে উচ্চারণ করেন, “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।” তাঁর এই উচ্চারণ উপস্থিত সুধীজনদের মাঝে দেশের কৃষি ও অর্থনীতির অগ্রযাত্রার প্রতি এক নতুন আশার সঞ্চার করে।








