কুয়েটের ২৩তম বর্ষপূর্তি উদযাপিত, প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রী মিলন
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২৩তম বর্ষপূর্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। ০১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর ২৩তম বর্ষপূর্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। গত ০১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই দিনটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। দেশের অন্যতম এই শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটির তাৎপর্য আরও বৃদ্ধি পায়। অনুষ্ঠানে কুয়েটের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী, প্রফেসর ড. মো. হাসান আলী, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, রকিবুল ইসলাম বকুল, আমির এজাজ খান, এস এম শফিকুল আলম মনা এবং শফিকুল ইসলাম তুহিন।
বর্ষপূর্তির এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, "শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণে ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়। একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেন।" তাঁর এই বক্তব্যে দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শিক্ষার অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
শিক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা ও পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, "শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি জটিলতায় আটকে আছে। দ্রুত এসব জটিলতা দূর করে নিয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।" তাঁর এই ঘোষণায় শিক্ষক নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের হতাশা কাটানোর একটি দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।
অনুষ্ঠানে দেশের সার্বিক শিক্ষা খাতের অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত নানা পরিসংখ্যানও সামনে আসে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে একটি করে ট্যাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের ব্যয় প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়।
কুয়েটের ২৩তম বর্ষপূর্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উদযাপনের এই আয়োজনে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগের জট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের দৃঢ় মনোভাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সফলভাবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উৎসব সম্পন্ন হয়।








