কুড়িগ্রামে সারের গুদাম লুট, দেশজুড়ে চলছে সার সংকট
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ডিলারের গুদাম থেকে দুই শতাধিক বস্তা সার লুটের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যেই দেশব্যাপী তীব্র সার সংকট ও বাড়তি দামের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সারের তীব্র সংকট ও বাড়তি দামের মধ্যে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একজন সারের ডিলারের গুদাম লুটের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। দেশের বেশ কিছু এলাকায় চলমান সার সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সমস্যার মধ্যেই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ক্ষুব্ধ কৃষকরা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত এক ডিলারের গুদামে হামলা চালিয়ে সার লুটে নেন। এই সময় গুদাম থেকে সর্বমোট ২০২ বস্তা ইউরিয়া এবং ২৩ বস্তা পটাশ সার জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হয়।
কুড়িগ্রাম ছাড়াও জয়পুরহাট, নওগাঁ, দিনাজপুর ও শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সারের জন্য হাহাকার চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতি কেজি সারে ৪ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সারে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও কোথাও কোথাও ১ হাজার ৫৫০ টাকা পর্যন্ত দাম চাওয়া হচ্ছে।
সার সংকটের এই পরিস্থিতিতে উদ্ভূত বিশৃঙ্খলা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা চলছে। কুড়িগ্রাম ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, সার নিয়ে মাঠে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে, এটা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তিনি কৃষকদের উদ্দেশে আরও বলেছেন, এগুলো ভালো না, এগুলো করবেন না।
দেশজুড়ে এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার সার সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়, বিসিআইসি এবং বিএডিসি-এর আওତায় সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।
ওই বৈঠকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের মোট ২ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই আমদানির মধ্যে রয়েছে ৭০ হাজার টন ইউরিয়া, ১ লাখ ১৫ হাজার টন এমওপি, ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিএপি এবং ৬০ হাজার টন টিএসপি সার।
সার সংকটের এই সংকটময় মুহূর্তে ময়মনসিং জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে মাসুম মিয়া, ফরিদ উদ্দিন, মজিদুল ইসলাম, আকবর আলী, শামসুল ইসলাম মন্ডল, এম এম বাবুল ও মো. সেলিম খানসহ সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন পর্যায়ে মতামত প্রকাশ করেছেন। সরকার আশা করছে, দ্রুত নতুন সার সরবরাহ শুরু হলে মাঠপর্যায়ের সংকট ও বিশৃঙ্খলা কেটে যাবে।








