কুড়ি বছরে পা, চঞ্চল ও শান্তার দাম্পত্য জীবনের গল্প
বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও ডা. শান্তা চৌধুরীর বিশতম বিবাহবার্ষিকী পূর্ণ হয়েছে। বাটন ফোনের যুগের এক ফোনকল থেকে শুরু হওয়া প্রেম এবং আইনি ও ধর্মীয় দুই দফায় বিয়ের গল্প ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন এই অভিনেতা।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৬:৪৬· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী শান্তা চৌধوری তাঁদের দাম্পত্য জীবনের বিশ বছর পূর্ণ করেছেন। গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার তাঁদের বিয়ের এই বিশ বছর পূর্ণ হয়। বিশেষ এই দিনটিতে নিজেদের জীবনের নানা স্মৃতি ও অনুভূতির কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন এই অভিনেতা।
চঞ্চল চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে স্মৃতিচারণ করে জানান, বাটন ফোনের যুগে গভীর রাতে হঠাৎ একটি মেয়ে তাঁকে ফোন করে বলেছিল, আপনার অভিনয় আমার ভাল্লাগে। মেয়েটি যদিও তা বলেননি, তবুও চঞ্চলের মনে হয়েছিল শুধু অভিনয় নয়, তাঁকে শান্তার ভালো লাগে। ওই বিশ্বাস নিয়েই মোবাইল ফোনে মাস খানেক কথাবার্তা চলেছিল। এরপর সামনাসামনি দেখা না করেই ফোনে কথা দেওয়া হয়েছিল যে, মেয়েটি রাজি থাকলে তাঁরা বিয়ে করতে পারেন।
বিয়ের সেই সময়ের পারিবারিক পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে চঞ্চল চৌধুরী উল্লেখ করেন, তাঁর বয়স হু হু করে বেড়ে যাচ্ছিল এবং বাবা-মা, ভাইবোন সবার কাছেই তিনি পুত্র দায়গ্রস্ত হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর বিয়ে করার সিদ্ধান্তে তাঁর পুরো পরিবার আনন্দে লাফাচ্ছিল। তবে মেয়ের পরিবারের কয়েকজন ঘোর অরাজি ছিলেন এবং কয়েকজন ছিলেন নিম রাজি। শেষমেশ নিজেদের সিদ্ধান্তেই তাঁরা দুই দফায় বিয়ে সম্পন্ন করেন। প্রথম দফায় কাগজপত্রে আইনি উপায়ে এবং দ্বিতীয় দফায় ধর্মীয় অনুশাসন মেনে তাঁদের বিয়ে হয়।
দাম্পত্য জীবনের দীর্ঘ পথচলা নিয়ে এই অভিনেতা লিখেছেন, হাজার অভিযোগ মাথায় নিয়ে গতকাল তাঁদের বিয়ের বিশ বছর পার হয়েছে। তিনি কখনো ভাবেননি যে তাঁর মতো বাউণ্ডুলের সঙ্গে এই ভদ্রমহিলা এতদিন সংসার করবেন। তাঁদের এই সম্পর্ক টিকে থাকার প্রধান কারণ হিসেবে তাঁদের একমাত্র সন্তান শুদ্ধর কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
পাঠকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে চঞ্চল চৌধুরী জানান, সেই ফোন করা মেয়ে বা ভদ্রমহিলার নাম ডা. শান্তা চৌধুরী, যিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। তাঁদের এই সংসারে শুদ্ধ নামের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
ভক্তদের উদ্দেশে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, কখনোই তাঁর খুব বেশি দাবি বা চাওয়া কারও কাছে ছিল না। তবে আজকের দিনটিতে সবার কাছে তাঁর দাবি হলো, তাঁর জন্য কম প্রার্থনা করলেও যেন তাঁর বউ ও ছেলের জন্য সবাই দোয়া বা প্রার্থনা করেন। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে তাঁরা ভালো আছেন এবং সবাই যেন বাবা-মা, ভাইবোন, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ভালো থাকেন, সেই কামনাও করেছেন তিনি। লেখাটির শেষে চঞ্চল চৌধুরী যোগ করেছেন, তিনি তাঁর ঘর এবং দেশ ভালোবাসেন।








