কুষ্টিয়ায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমালোচনা ইশরাক হোসেনের
কুষ্টিয়ার খোকসায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের কঠোর সমালোচনা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের সময়ে লংমার্চের নামে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যয় করে জাতীয় সম্পদের অপচয় করা হচ্ছে। এছাড়া তিনি খোকসায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:০৩· ১ মিনিট পড়া

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ৫ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা সফর করেছেন। এই সফরে তিনি খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সফরকালে তিনি স্থানীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
খোকসা উপজেলা সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন খোকসা জানিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রধান অতিথি কিংবা বিশেষ বক্তা হিসেবে তার রাজনৈতিক ও জাতীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, জ্বালানি সংকটের সময়ে লংমার্চের নামে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যয় করে জাতীয় সম্পদের অপচয় করা হচ্ছে। এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জীবনে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি সৃষ্টি করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
লংমার্চের তেলের হিসাব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, লংমার্চের জন্য প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি তেল ব্যয় হবে বলে হিসাব করা হচ্ছে। অথচ এটি এমন একটি সময়ে হচ্ছে, যখন দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রথমদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে লংমার্চের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও সংবিধানের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই সংস্কার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এই লক্ষ্যেই সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটিতে বিরোধীদলকে আহ্বান জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, এমপি হিসেবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী শপথ নেওয়ার পর যে অতিরিক্ত শপথের কাগজ দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে তিনি অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে মনে করেন। তবে এ বিষয়ে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতামত থাকলেও তিনি সেই বিতর্কে যেতে চান না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার খোকসায় আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে সোহরাব উদ্দিন, সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, আলাউদ্দিন খান ও রিপন হোসেনের মতো ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিএনপি এবং ১১ দলীয় ঐক্য সম্পর্কিত নানা বিষয় স্থানীয় রাজনীতি ও এই সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।








