কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আবদুল আলীমের প্রয়াণ দিবস আজ
সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র লোকসংগীতসম্রাট আবদুল আলীমের প্রয়াণ দিবস ৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই জন্মগ্রহণ করা এই গুণী শিল্পী ১৯৭৪ সালের এই দিনে মারা যান।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

আজ ৫ সেপ্টেম্বর, দেশের সংগীত জগতের এক অবিস্মরণীয় দিন। এদিন স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা লোকসংগীতের ক্ষণজ জন্ম নেওয়া কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আবদুল আলীমকে। ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই মহান শিল্পী। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল এবং তিনি মাত্র ১৩ বছর বয়সে সংগীতাঙ্গনে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন।
তাঁর বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনে আবদুল আলীম গ্রামোফোন রেকর্ড ও অন্যান্য মাধ্যমে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই শিল্পীর ৫০০ গান রেকর্ড হয়েছে। তাঁর জাদুকরী কণ্ঠে বাংলার মাটি ও মানুষের গান পেয়েছে এক অনন্য উচ্চতা, যা আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীরভাবে রেখাপাত করে চলেছে। লোকসংগীতকে তিনি বিশ্ব দরবারে পরিচিত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে আবদুল আলীম সাত সন্তানের জনক ছিলেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন আজগর আলীম, জহির আলীম, নূরজাহান আলীম, আক্তার জাহান আলীম, আছিয়া আলীম, হায়দার আলীম এবং জোহরা আলীম। এছাড়াও তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে সৈয়দ গোলাম আলী এবং জমিলা আলীম সংশ্লিষ্ট রয়েছেন, যারা তাঁর স্মৃতিকে টিকিয়ে রাখতে ও জীবনদর্শনকে স্মরণ করতে নানাভাবে জড়িত।
দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনের ইতি টেনে আবদুল আলীম ১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর এই প্রয়াণ তৎকালীন স্বাধীন বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছিল। তাঁর সুর ও গায়কী আজও দেশের লোকসংগীতপ্রেমী মানুষের মনে চিরজাগরূক হয়ে আছে।
বাংলা সংস্কৃতিতে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে যথাযথ সম্মাননা প্রদান করে। ১৯৭৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পর, বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৭ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে সম্মানিত করে। এই রাষ্ট্রীয় সম্মান তাঁর অসামান্য অবদান ও সাধনাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
তাঁর প্রয়াণ দিবসে বাংলাদেশ বেতার, বিটিভি এবং ঢাকা সংগীত কলেজসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নানা আয়োজনের মাধ্যমে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে লোকসংগীতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।








