কলকাতায় হোটেল অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিকসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত
ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ ৭ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় নিহত আকরাম হোসেনের ৭ বছর বয়সী নাতনি মহিমা দত্তের এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছে এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারতের স্থানীয় সময় অনুযায়ী হতাহতের এই ঘটনাটি ঘটে এবং আগুনে দগ্ধ হয়ে ও মূলত দমবন্ধ হয়ে এই ৯ জনের মৃত্যু হয়।
নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত রয়েছেন, যার বয়স হয়েছিল ৩৯ বছর। তাঁর সঙ্গে এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর স্ত্রী ২৭ বছর বয়সী আফসানা শারমীন, তাঁদের তিন বছরের শিশুপুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর ৬৪ বছর বয়সী আকরাম হোসেন। একই ঘটনায় নিহত পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মহিমা দত্ত (৭ বছর বয়স), আহমেদ বাবু (৪০ বছর বয়স), এবং আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫ বছর বয়স)।
নিহত ব্যক্তিদের তালিকায় আরও যুক্ত রয়েছেন মোজাম্মেল হক রাসেল, মুফতি আমির হামজা, রেবতী সরকার এবং সন্দীপ পাসওয়ান। এর আগে গত ৩ আগস্ট তাঁরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে গমন করেছিলেন। কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের যে আবাসিক হোটেলে তাঁরা অবস্থান করছিলেন, সেখানে হঠাৎ আগুন লাগার এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ বর্তমানে কলকাতার কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। কুষ্টিয়া ও কলকাতা—উভয় অঞ্চলেই এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিক মহলে এই শোকাবহ সংবাদটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
এই শোকাবহ পরিস্থিতির মধ্যে নিহত আকরাম হোসেনের ৭ বছর বয়সী নাতনি মহিমা দত্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বড় ঘোষণা এসেছে। কুষ্টিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এডুকেয়ার স্কুল এবং এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এই মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মহিমার শিক্ষার পথ যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মোজাম্মেল হক রাসেল একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, 'মহিমা দত্তের এইচএসসি পর্যন্ত স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি, বই-খাতা, কলমসহ যাবতীয় খরচ এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বহন করবে। শুরু থেকেই যেন বাবা-মায়ের অভাবে সে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। সকালে আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে গিয়ে সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছি।'
কুষ্টিয়া ও কলকাতার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শোকার্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দিতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসছে।








