এসএসসি পরীক্ষার ৩৭ বছরের ইতিহাসে পাসের হারের ওঠানামা
বাংলাদেশের এসএসসি পরীক্ষার গত ৩৭ বছরের ইতিহাসে পাসের হারে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। এর মধ্যে ১৯৯০ সালে সর্বনিম্ন এবং ২০২১ সালে সর্বোচ্চ পাসের হার রেকর্ড করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষা পদ্ধতিতে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:০১· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের এসএসসি পরীক্ষার গত ৩৭ বছরের ইতিহাসে পাসের হারে নানা ওঠানামা দেখা গেছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে থাকে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষায় ১৮ থেকে ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সুদীর্ঘ এই ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পাসের হারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে যেমন রেকর্ড হয়েছে, তেমনি পরীক্ষার নিয়মেও এসেছে বড় পরিবর্তন।
এই দীর্ঘ ইতিহাসে পাসের হারের দিক থেকে দুটি প্রান্তিক অবস্থা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এর মধ্যে ১৯৯০ সালে সর্বনিম্ন পাসের হার ছিল ৩১.২৩ শতাংশ। অন্যদিকে, দীর্ঘ বছর পর ২০২১ সালে এসে পাসের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ওই বছর সর্বোচ্চ পাসের হার ছিল ৯৩.৫৮ শতাংশ। এই সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ রেকর্ডের মধ্য দিয়ে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার ফলাফলে এক ব্যাপক ব্যবধানের চিত্র ফুটে ওঠে।
রাজনীতি ও সরকার পরিবর্তনের সাথেও পরীক্ষার ফলাফলের কিছু পরিসংখ্যানের যোগসূত্র পাওয়া যায়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, বিএনপি সরকারের আগের দুই মেয়াদে পাসের হার ছিল যথাক্রমে ৬১–৭৩ শতাংশ এবং ৩৫–৫৩ শতাংশের মধ্যে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সময়ে ফলাফলের এই তারতম্য দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরীক্ষার মান বাড়াতে এবং মূল্যায়নে আধুনিকতা আনতে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন পদ্ধতি সংযোজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৯৯২ সালে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন বা এমসিকিউ পদ্ধতি চালু করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পর ২০০১ সালে গ্রেডিং সিস্টেম বা জিপিএ পদ্ধতি চালু করা হয়। এসব কাঠامোগত পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বড় ধরণের পরিবর্তন আসে।
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষার প্রভাব সবসময়ই লক্ষ্য করা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তোলার ক্ষেত্রে অনেক সংবাদকর্মী ও চিত্রগ্রাহক দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মধ্যে আবদুস সালাম এবং জাহিদুল করিমের মতো পেশাদার আলোকচিত্রশিল্পীরা বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষার পরিবেশ ও চিত্র ক্যামেরাবন্দী করেছেন। সব মিলিয়ে এসএসসির ৩৭ বছরের ইতিহাস শিক্ষা ব্যবস্থার নানা বিবর্তন ও পরিসংখ্যানের এক বড় দলিল।








