এফএও প্রতিবেদন: গভীর সংকটে দেশের কৃষি খাত
বন্যায় ও জলমদ্ধতায় এবং কৃষি উপকরণের উচ্চ মূল্যের কারণে বাংলাদেশের কৃষি খাতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত জরুরি তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কৃষি খাতে চলমান গভীর সংকট তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালে দেশের কৃষি খাত বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং কৃষি উপকরণ ও খাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এই সংকটের কারণে দেশের সামগ্রিক কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর জীবনযাত্রায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে জরুরি কৃষি সহায়তার প্রয়োজন হবে প্রায় ১০ লাখ কৃষি পরিবারের। সব মিলিয়ে এই পরিবারগুলোর প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সরাসরি জরুরি সহায়তার আওতায় আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এফএও-এর পূর্ববর্তী সেপ্টেম্বর মাসের হিসাবের তুলনায় এই সহায়তা প্রত্যাশী পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দেয়।
এফএও-এর এই মূল্যায়নের জন্য এপ্রিল ও মে মাসে কম্পিউটার-সহায়তা টেলিফোন ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে মোট ৬,১৪৩টি পরিবারের ওপর জরিপ চালানো হয়। এই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগে কৃষি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি মাত্রায় লক্ষ্য করা গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অর্থনৈতিক ধাক্কার কারণে এই অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে।
জরিপে উঠে এসেছে যে, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রায় ৮৪ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে খাদ্য ও জ্বালানির ঊর্ধ্বগতির ফলে এসব পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হওয়া পরিবারের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ১৬ শতাংশ পরিবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়েছে, যা আগের মেয়াদের তুলনায় ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
চলমান এই অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক সংকটের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান শোচনীয় হয়ে পড়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি দুটি পরিবারের মধ্যে দুটি পরিবারই জানিয়েছে যে তারা বাধ্য হয়ে বাকিতে খাদ্য ক্রয় করছে। এছাড়া সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে প্রায় ৬৬ শতাংশ পরিবার তাদের স্বাস্থ্যসেবা বাবদ খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সরকারি-বেসরকারি সহায়তার ওপর মানুষের নির্ভরতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। এফএও-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৪তম দফায় নগদ সহায়তার জন্য আবেদন করেছে প্রায় ৫৭ শতাংশ পরিবার, যা ১৩তম দফায় ছিল মাত্র ১৬ শতাংশ। এর পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় প্রায় ৩০ শতাংশ পরিবার ফসল বিক্রি নিয়ে চরম সমস্যার মুখে পড়েছে, যা আগের দফায় ছিল ৯ শতাংশ মাত্র।
কৃষি খাতের পাশাপাশি পশুপালন খাতের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গবাদিপশু পালনকারী খামারিদের মধ্যে প্রায় ৯১ শতাংশ খামারি বিভিন্ন ধরণের প্রাণী রোগবালাইয়ের সমস্যায় জর্জরিত। এছাড়া প্রায় ১৭ শতাংশ খামারি পশুর উচ্চমূল্যের খাদ্য বা ফিডের কারণে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, যা সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও বেশি সংকটাপন্ন করে তুলেছে।








