একনেকে সংস্কার ও উন্নয়নের পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো উন্মোচন
গতকাল বুধবার রাজধানী ঢাকার পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১) উন্মোচন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

গতকাল বুধবার রাজধানী ঢাকার পরিকল্পনা কমিশন প্রাঙ্গণে অবস্থিত পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য একটি নতুন পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১) আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিকল্পনা প্রণয়নের অংশ হিসেবে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) এই পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামোটি প্রণয়ন করেছে। এই কাঠামোর আওতায় দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উন্মোচিত হওয়া এই কৌশলগত কাঠামোতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। পাশাপাশি, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যও এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কৌশলগত কাঠামোর লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন খাতের কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশের ৪১টি মন্ত্রণালয় তাদের নিজ নিজ পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই মূলত নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জন করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সভায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাব্য উপায় ও অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে জানানো হয় যে, বেসরকারি বিনিয়োগ যদি জিডিপির ৩০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তবে এর ফলে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া, বার্ষিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার দ্বিগুণ করার মাধ্যমে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কৌশলগত কাঠামো উন্মোচনের পাশাপাশি একনেক বৈঠকে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকালের বৈঠকে সর্বমোট ১০টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। অনুমোদিত এই ১০টি প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশন, ঢাকা-তে অনুষ্ঠিত এই একনেক সভার মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার একটি পরিষ্কার দিকনির্দেশনা পাওয়া গেল। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।








