এআই সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভারতের হায়দ্রাবাদে মাইক্রোসফটের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার চালু
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ভারতের হায়দ্রাবাদে ‘ইন্ডিয়া সাউথ সেন্ট্রাল’ নামে নিজেদের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার চালু করেছে মাইক্রোসফট। ২০.৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগের অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই সেন্টারের প্রাথমিক গ্রাহক হিসেবে যুক্ত হয়েছে আদানি গ্রুপ ও এইচডিএফসি ব্যাংক। এর মাধ্যমে ভারতের বাজারে শীর্ষ ক্লাউড সেবাদাতা হিসেবে মাইক্রোসফট তাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করল।
ঢাকাপ্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত প্রসার এবং ক্লাউড সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে তাল মেলাতে ভারতের হায়দ্রাবাদে নিজেদের সর্ববৃহৎ ডেটা সেন্টার উদ্বোধন করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রাখার এই পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক গ্রাহক হিসেবে যুক্ত হয়েছে আদানি গ্রুপ এবং এইচডিএফসি ব্যাংকের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান।
‘ইন্ডিয়া সাউথ সেন্ট্রাল’ নামের এই নতুন অবকাঠামোটি যুক্ত হওয়ার ফলে ভারতে মাইক্রোসফটের ক্লাউড রিজিওনের (অঞ্চলের) সংখ্যা এখন চারে উন্নীত হলো। এর আগে পুনে, চেন্নাই এবং মুম্বাইতে তাদের ডেটা সেন্টার কার্যক্রম শুরু করেছিল। নতুন এই হাবটি চালুর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্লাউড সেবা প্রদানকারী হিসেবে ভারতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল মাইক্রোসফট।
১০০ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি-দক্ষ জনশক্তির বাজারকে কাজে লাগাতে মাইক্রোসফট ভারতে প্রায় ২০.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, গত দুই বছরে ভারতে তাদের ক্লাউড কম্পিউটিং শাখা ‘অ্যাজিউর’-এর রাজস্ব আয়ে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
নিজেদের একক ডেটা সেন্টারের পাশাপাশি, ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানির প্রতিষ্ঠান ‘জিও’-এর সাথে যৌথ উদ্যোগেও দুটি ডেটা সেন্টার পরিচালনা করছে মাইক্রোসফট। মাইক্রোসফট ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুনিত চান্দোক এই প্রসারের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রকৃত উপযোগিতা তৈরি করতে হলে ডেটা সংরক্ষণ, টিমের কর্মক্ষেত্র এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাগুলোর কাছাকাছি নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো থাকা অপরিহার্য। হায়দ্রাবাদের নতুন এই কেন্দ্রটি সেই ভিত্তির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ভারতের বিশাল এআই বাজারের এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মাইক্রোসফটের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট (গুগল) এবং অ্যামাজনও তাদের ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। তবে এই ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সবসময় বাধাহীনভাবে এগোচ্ছে, তা কিন্তু নয়।
সম্প্রতি পরিবেশবাদীরা অভিযোগ তুলেছেন যে, ভারতে গুগলের পরিকল্পিত ডেটা সেন্টার হাব স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়াটি যথেষ্ট যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পানি সরবরাহ এবং বন্যপ্রাণীর ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি অবহেলিত হয়েছে বলে তাদের দাবি। যদিও সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।


