উগ্রবাদী তৎপরতা ও বোমা উদ্ধার: ১০ মামলার তদন্তে ধীরগতি
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে বোমা ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা ১০ মামলার মধ্যে ছয়টির তদন্তে এখনও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। গত আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তদন্ত চলছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য ও মানবাধিকারকর্মীদের পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে বোমা ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। গত আট মাসে দেশের আরও ৯ স্থানে বোমা ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এ সব ঘটনায় দায়ের করা ১০ মামলার মধ্যে ছয়টির তদন্তে এখনও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এই পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং মামলার তদন্তের ধীরগতি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনাগুলোর মধ্যে গত ২৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভাড়া বাড়িতে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই স্থান থেকে প্রায় ৪০০ লিটার রাসায়নিক ও ৯টি বোমা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় উগ্রবাদ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। এ বিষয়ে এটিইউর কর্মকর্তা মো. শাহ জালাল আলম বলেন, 'এ ঘটনায় উগ্রবাদ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। যার কারণে মামলাটি এটিইউ তদন্ত করছে।'
উদ্ধার অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত ৩১ জানুয়ারি যশোরের বাঘারপাড়ায় যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। বাঘারপাড়া থানা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই অভিযানে ১০টি গ্রেনেড, তিনটি বিদেশি পিস্তল ও ১৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধارের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এর কিছুদিন পর গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পকেট গেটে তল্লাশি চৌকিতে দায়িত্বরত অবস্থায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে কনস্টেবল মো. শাহ আলম আহত হন। এই ঘটনার তদন্ত প্রসঙ্গে যাত্রাবাড়ী থানার কর্মকর্তা মো. রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ক্যামেরা বিশ্লেষণ করে মামলার তদন্ত কাজ চলছে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২৪ জুলাই মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে একটি 'পাইপবোমা' উদ্ধার করা হয়। এই বোমা উদ্ধারের ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং তা তদন্তাধীন রয়েছে। পরবর্তীতে গত ১১ আগস্ট সাভারের ট্যানারি শিল্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। আশুলিয়া থানা পুলিশ এই অভিযানে অংশ নেয় এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বিভিন্ন স্থানে বোমা উদ্ধারের এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে চুন্নু মোল্লা, রায়হান মোল্লা, নাজমুল হাসান মামুন, মোহাম্মদ আরিফ, ইমরান, রেজওয়ানুল ইসলাম, শেখ আল আমিন, রঞ্জন চক্রবর্তী, নাহিদ মিনা, আজহারুল ইসলাম শিহাব ও বিরঙ্গ চন্দ্র মণ্ডল রয়েছেন। এর মধ্যে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে বিরঙ্গ চন্দ্র মণ্ডল জানান, আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল তেজস্ক্রিয়তা বা ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে মাহফুজুল আলম রাসেল বলেন, 'প্রতিটি মামলার তদন্ত চলমান। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।'
সার্বিক বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী ও বিশারদ নূর খান লিটন তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, 'দেশের উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা আগে ছিল; এখনও আছে। তবে অপরাধীরা বিভিন্ন সময় কৌশল বদলিয়েছে। আবার তারা আলোচনায় এসেছে। উগ্রবাদ একটি বৈগ্রিক সমস্যা। তাই সব তথ্য আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।' সমকাল পত্রিকার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে এবং নব্য জেএমবি বা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।








