ইরান-চীন তেল বাণিজ্যে সহায়তার অভিযোগে তুরস্কে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ইরান ও চীনের তেল বাণিজ্যে সহায়তা করার অভিযোগে ইস্তাম্বুলভিত্তিক তিনটি তুর্কি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। তবে মার্কিন এই অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে অভিযুক্ত গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের সঙ্গে চীনের তেল বাণিজ্যে সহায়তা করার অভিযোগে ইস্তাম্বুলভিত্তিক তিন প্রতিষ্ঠানকে 'স্পেশালি ডেজিগনেটেড ন্যাশনালস' বা এসডিএন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দুই দেশের জ্বালানি লেনদেনের ওপর কঠোর নজরদারির বার্তা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি আনোনিম সিরকেতি, গোল্ডেন গ্লোবাল পোর্টফোলিও ইয়োনেতিমি আনোনিম সিরকেতি এবং গোল্ডেন গ্লোবাল ভার্লিক কিরালামা আনোনিম সিরকেতি।
এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রধান প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসির আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় যে, ২০২৫ সালে এই ব্যাংকটির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন তুর্কি লিরা বা ৫১৬ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল বা ওফ্যাকের পক্ষ থেকে এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইস্তাম্বুল, তুরস্ক ও ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এই নিষেধাজ্ঞার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে স্কট বেসেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, "ইরান ও দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে বাণিজ্যে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই পদক্ষেপ একটি স্পষ্ট বার্তা।" মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এই শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন থামাতেই ওয়াশিংটন এই ধরনের পদক্ষেপে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অভিযুক্ত তুর্কি পক্ষ। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং তারা আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনেই তাদের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে ইরান ও চীনের মধ্যকার তেল বাণিজ্যের পাশাপাশি বেশ কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। এই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে মিয়াদ মালেকি, সিটকি আয়ান এবং ব্রেট এরিকসনের নামও আলোচিত হয়েছে। একই সঙ্গে এই পুরো প্রেক্ষাপটে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি এবং ব্যাংক মিসরের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের নজরে এসেছে।
এই নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক সংস্থা মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস এবং অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজারস নামক সংস্থাগুলো ইরান ও চীনের তেল বাণিজ্যের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে কাজ করছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে তুরস্কের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ওপর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।








