ইন্তেকাল করেছেন বরেণ্য শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার
বরেণ্য শিল্পী, পাপেট সম્રાট ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৫ সালে জন্মগ্রহণকারী এই গুণী ব্যক্তিত্ব ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দেশের বরেণ্য শিল্পী, পাপেট সম્રાট ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তাঁর এই প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি তাঁর দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনে শিল্পকলা, সংস্কৃতি এবং জাতীয় বিভিন্ন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।
প্রখ্যাত এই শিল্পীর জন্ম ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে। তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যও ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তাঁর পিতা ছিলেন বিশিষ্ট কবি গোলাম মোস্তফা এবং মাতা জমিলা খাতুন। পারিবারিক পরিবেশ এবং নিজস্ব প্রতিভার বলে তিনি ছোটবেলা থেকেই শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হন এবং পরবর্তীতে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
শিক্ষাজীবন পেরিয়ে তিনি কর্মজীবনে প্রবেশের আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। প্রথম আলো সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তাঁর শিক্ষাজীবনের সাথে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল, স্কটিশ চার্চ কলেজ, কলকাতা সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় এবং ঢাকা আর্ট কলেজ জড়িত রয়েছে। ১৯৫৯ সালে তিনি চারুকলায় পড়াশোনা শেষ করে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং এর স্বীকৃতিস্বরূপ স্বর্ণপদক লাভ করেন।
শিল্পচর্চার পাশাপাশি মুস্তাফা মনোয়ার দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। এর মধ্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন অন্যতম। ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি কার্টুন এঁকে প্রতিবাদ জানান এবং এই অপরাধে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছিল। তাঁর আঁকা কার্টুন সেই সময়ে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে এক অনন্য প্রচারের মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।
তাঁর জীবনের অন্যতম সাহসিকতাপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। সে সময় টেলিভিশনে পাকিস্তানের পতাকা না দেখানোর সাহসী সিদ্ধান্তে তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন, যা তৎকালীন বাঙালি জাতির মুক্তিকামী সংগ্রামের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিল।
জীবদ্দশায় তিনি শিল্পকলা, পুতুল নাচ বা পাপেট শিল্প এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর হাতে গড়া বহু শিক্ষার্থী ও অনুসারী পরবর্তীতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন। আসলাম শিকদার, লিয়ার লেভিন, তারেক মাসুদ, ওয়াহিদুল হক এবং সন্জীদা খাতুনের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানের সাথে তাঁর কর্মময় জীবনের যোগসূত্র রয়েছে।
৯১ বছরের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য জীবনাবসানের মধ্য দিয়ে মুস্তাফা মনোয়ারের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই ক্ষণজন্মা শিল্পী ২৯ জুন ২০২৬ সালে মৃত্যুবরণ করলেও তাঁর শৈল্পিক সৃষ্টি, দেশপ্রেম এবং সাংস্কৃতিক অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।








