ইতালিতে দীর্ঘ ৭ বছর পর পাসপোর্ট পেলেন বিএনপি নেতা সোহাগ খান
ইতালিতে দীর্ঘ ৭ বছরের রাজনৈতিক জটিলতা ও ব্লকিং শেষে অবশেষে নতুন পাসপোর্ট হাতে পেলেন ইতালি বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক সোহাগ খান। রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে তিনি এই পাসপোর্ট লাভ করেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ইতালিতে দীর্ঘ সাত বছরের রাজনৈতিক জটিলতা ও ব্লকিংয়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন ইতালি বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক এবং জুলাই-গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের নেতা সোহাগ খান। গত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ইতালির রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তিনি এই পাসপোর্ট লাভ করেন। দীর্ঘ এই প্রবাস জীবনে তাকে নানা ধরণের আইনি ও মানসিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোহাগ খান ২০১৩ সালে ইতালিতে আসেন। এর পর তিনি ২০১৫ সালে বাংলাদেশে যান এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে তার পাসপোর্টটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পাসপোর্ট পাস না হওয়ায় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক জটিলতার কারণে তিনি দীর্ঘ ৩ বছর কোনো কাজ করতে পারেননি। এই দীর্ঘ সময়ে তাকে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, ২০২১ সালে তার নিজ দেশে বাবা মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু বৈধ পাসপোর্ট না থাকার কারণে তিনি তার মৃত বাবার জানাজা ও শেষকৃত্যে অংশ নিতে দেশে ফিরতে পারেননি। পরিবারের চরম দুঃসময়ে পাশে থাকতে না পারার এই বেদনা তাকে মানসিকভাবে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছিল।
দীর্ঘ এই সংকটের নেপথ্যে ছিল রাজনৈতিক বৈরিতা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং দলীয় নানা জটিলতার কারণে তার পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। দীর্ঘ এই সাত বছরে তার প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হয়।
অবশেষে তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা এবং দলীয় নেতাকর্মী রফিকুল হক ও শামীম আহসানের সহযোগিতায় পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। তাদের সার্বিক প্রচেষ্টায় রোম অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে তার নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করে। দীর্ঘ এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সোহাগ খান বলেন, "ভাইয়েরা যদি আর একটু ধৈর্য ধরতেন, তবে হয়তো আজ তারাও সমাধান পেতেন।" দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাসপোর্ট পাওয়ায় প্রবাসীর জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।








