ইংল্যান্ডে পাব রূপান্তরে কড়াকড়ি, নতুন নীতিমালায় বাধা
ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল প্ল্যানিং পলিসি ফ্রেমওয়ার্কে (এনপিপিএফ) নতুন আপডেট আসছে সোমবার। এর ফলে পাবকে আবাসন বা অফিসে রূপান্তর করা আরও কঠিন হবে। পাশাপাশি রেলওয়ে স্টেশনের আশেপাশে বাড়ি নির্মাণে ডিফল্ট অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ইংল্যান্ডে পাব বা মদের দোকানকে আবাসন কিংবা অফিসে রূপান্তর করা আরও কঠিন করে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল প্ল্যানিং পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক বা এনপিপিএফ-এর (NPPF) একটি আপডেট আগামী সোমবার থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর গুরুত্বপূর্ণ এসব ঐতিহ্য ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন এই নীতিমালার অধীনে ডেভেলপারদের এখন থেকে কোনো পাব বিক্রির জন্য কমপক্ষে ১২ মাস ধরে বিপণন বা প্রচার চালানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। এই কঠোর শর্তের কারণে চাইলেই সহজে কোনো পাবের বাণিজ্যিক রূপান্তর করা সম্ভব হবে না।
ক্যাম্পেইন ফর রিয়েল এল, ব্রিটিশ বিয়ার অ্যান্ড পাব অ্যাসোসিয়েশন, ইউকেহসপিটালিটি, স্পোর্ট ইংল্যান্ড, গার্ডেন্স ট্রাস্ট এবং থিয়েটার্স ট্রাস্টের মতো বিভিন্ন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তবে এই খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। ব্রিটিশ বিয়ার অ্যান্ড পাব অ্যাসোসিয়েশনের অ্যালেন সিম্পসন মন্তব্য করেছেন যে, আতিথেয়তা ব্যবসার মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট এবং ব্যবসা সংক্রান্ত হার বা বিজনেস রেট, যা মূলত পাবগুলোকে ব্যবসার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে।
অ্যালেন সিম্পসন আরও বলেন, সম্প্রদায়ের কাছ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদগুলো কেড়ে নেওয়া কঠিন করে তোলে এমন যেকোনো বিষয়কেই স্বাগত জানাতে হবে। তবে সরকারের উচিত গত দুই বছরে আতিথেয়তা খাতের ওপর যে ক্ষতি হয়েছে, তা ঠিক করার ক্ষেত্রে তাদের জোরালো সূচনা অব্যাহত রাখার ওপর মনোযোগ দেওয়া।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে আবাসন খাতের প্রসারে বড় ধরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লেবার সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে ১৫ লক্ষ বা ১.৫ মিলিয়ন বাড়ি নির্মাণের একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সরকারের এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডে রেলওয়ে স্টেশনগুলোর আশেপাশে বাড়ি নির্মাণের জন্য ডিফল্ট অনুমোদনের ব্যবস্থাও এনপিপিএফ-এর এই আপডেটটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই আবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে এঞ্জেলা রেইনার বলেন, ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে এমন সব পরিবহন হাবের আশেপাশে হাজার হাজার বাড়ি উন্মুক্ত করার মাধ্যমে আমরা মানুষকে তাদের কর্মক্ষেত্র, স্কুল এবং তারা যেসব সেবার ওপর নির্ভর করে তার কাছাকাছি বসবাস করতে সহায়তা করছি। একইসঙ্গে এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসাগুলোকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে এবং আমাদের কমিউনিটিগুলোতে প্রবৃদ্ধি চালিত করা হচ্ছে।
তবে সরকারের এই সামগ্রিক পরিকল্পনা ও নীতির কঠোর সমালোচনা করেছে কনজারভেটিভ পার্টি। স্যার জেমস ক্লেভারলি লেবার সরকারের এই নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, নিজেদের তৈরি করা জগাখিচুড়ি ঠিক করার চেষ্টা করতে গিয়ে লেবার পার্টি একটি ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করছে। তারা স্থানীয় কমিউনিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিচ্ছে এবং ভুল জায়গায় উন্নয়ন গ্রহণ করতে তাদের বাধ্য করছে, কারণ লেবার পার্টি সঠিক জায়গায় নির্মাণকাজ করবে না।
বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিটার রুডিক এবং মিচেল লেবিয়াকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের আলোচনা ও পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডের পরিকল্পনা নীতিমালার এই পরিবর্তনগুলো সামনে এসেছে। আগামী সোমবার থেকে এই পরিবর্তিত নীতি কার্যকর হওয়ার পর দেশটির আবাসন খাত ও স্থানীয় পাবগুলোর ব্যবসায় কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








