ইঁদুরের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে সংক্ষিপ্ত ভিডিও পুনর্গঠন
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকরা ইঁদুরের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ব্যবহার করে সংক্ষিপ্ত ভিডিও সফলভাবে পুনর্গঠন করেছেন। ই-লাইফ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সের একক মস্তিষ্কের কোষ থেকে রেকর্ড করা ডেটা ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকরা ইঁদুরের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ রেকর্ড করে সংক্ষিপ্ত ভিডিও পুনর্গঠন করেছেন। এই উল্লেখযোগ্য গবেষণাটি সম্প্রতি ই-লাইফ (eLife) নামক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের জটিল কার্যাবলী এবং তা কীভাবে দৃশ্যমান জগতকে প্রক্রিয়াজাত করে তা বোঝার নতুন পথ উন্মুক্ত করেছেন।
গবেষণায় ইঁদুরের ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সের একক মস্তিষ্কের কোষ বা নিউরন থেকে সংগৃহীত রেকর্ডকৃত ডেটা ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং সেন্সবারি ওয়েলকাম সেন্টারের ড. জোয়েল বাউয়ের (Dr. Joel Bauer) জানান, তারা মূলত জানতে চেয়েছিলেন মস্তিষ্ক কীভাবে আমাদের দেখা বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যা করে।
ড. জোয়েল বাউয়ের বলেন, নির্দিষ্ট কিছু নিউরন কী প্রতিনিধিত্ব করছে তা বোঝার জন্য বর্তমান পদ্ধতিগুলো এমন পরিস্থিতিতে খুব একটা কার্যকর নয় যা আগে থেকেই বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। তাই তারা এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করতে চেয়েছেন যা মস্তিষ্কের ভেতর কী উপস্থাপিত হচ্ছে তা ধরতে পারে এবং বাস্তবতার সাথে তার তুলনা করতে পারে।
এই গবেষণায় গবেষকরা ২০২৩ সেন্সরিয়াম প্রতিযোগিতার একটি গতিশীল নিউরাল এনকোডিং মডেল ব্যবহার করেছেন। এই অভিনব পদ্ধতির মাধ্যমে গবেষকরা সফল হয়েছেন বলে জানান ড. জোয়েল বাউয়ের।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা ১০ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপগুলোর উচ্চ-মানের পুনর্গঠন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া আরও বেশি সংখ্যক স্বতন্ত্র নিউরনের ডেটা অন্তর্ভুক্ত করার সাথে সাথে পুনর্গঠনের নির্ভুলতাও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যাপক বা সামগ্রিক স্নায়বিক ডেটার গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
আমাদের মস্তিষ্ক কীভাবে চারপাশের জগতকে দেখে তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ড. জোয়েল বাউয়ের জানান যে আমাদের মাথার ভেতরে বিশ্বের কোনো নিখুঁত চিত্র বা উপস্থাপনা নেই। ভিজ্যুয়াল প্রসেসিং পাইপলাইন আমাদের উপস্থাপনাকে এমনভাবে বাঁকিয়ে বা ঘুরিয়ে দেয় যা তথ্যকে পরিবর্তন করে।
বাস্তবতা এবং মস্তিষ্কের মধ্যকার এই বিচ্যুতিকে কোনো ত্রুটি হিসেবে দেখছেন না গবেষকরা। ড. জোয়েল বাউয়ের ব্যাখ্যা করেন যে এই বিচ্যুতি ত্রুটি নয় বরং একটি বৈশিষ্ট্য, যা আমাদের মন কীভাবে সংবেদনশীল তথ্যকে ব্যাখ্যা করে এবং সমৃদ্ধ করে তা প্রতিফলিত করে। গবেষকরা এখন আরও গভীরভাবে অন্বেষণ করতে চান যে মস্তিষ্কের ভেতরে পুরো প্রক্রিয়াটি আসলে কীভাবে ঘটে থাকে।








