আসল শত্রু চেনার আহ্বান ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির
৩০ আগস্ট ইসলামিক ঐক্য সপ্তাহের আয়োজনে দেওয়া এক বার্তায় মুসলিম নেতাদের তাদের আসল শত্রু শনাক্ত ও প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে মিসরের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

৩০ আগস্ট পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত ‘ইসলামিক ঐক্য সপ্তাহ’ উপলক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি। এই আয়োজনে দেওয়া ভাষণে তিনি মুসলিম বিশ্বের শীর্ষনেতাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইসলামিক দেশগুলোর শাসকদের প্রতি আমার আহ্বান, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া সঙ্গে পারস্য উপসাগরবর্তী দেশগুলোর প্রতি, আপনার আপনাদের আসল শত্রু কে তা শনাক্ত করুন। তাদের পরিকল্পনা বুঝুন এবং তা প্রতিহত করুন।
মোজতবা খামেনি তার বক্তব্যে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির একটি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে বর্তমান সময়ে সত্যের বিজয় ও ইসলামের অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি বলেন, আজ, মিথ্যার ওপর সত্যের এবং অবিশ্বাসের বিরুদ্ধে ইসলামের বিজয়ের সময় আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তার এই ভাষণের মূল সুর ছিল মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং বাইরের শক্তির গোপন পরিকল্পনাগুলোর বিরুদ্ধে সজাগ থাকা।
ইরানের সংবাদমাধ্যম 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল'-এর তথ্য অনুযায়ী, এই বার্তার মাধ্যমে তেহরান মূলত আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চাইছে। মোজতবা খামেনির এই আহ্বানে পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন দেশের শাসকদের প্রতি শত্রুর চক্রান্ত মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই বার্তাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গভীর করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে তেহরান অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চায়। আঞ্চলিক সহযোগিতার পরিধি বাড়াতে ইরানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশেষ করে উত্তর আফ্রিকার প্রভাবশালী দেশ মিসরের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বার্তা দিয়েছেন আব্বাস আরাঘচি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মিসর যখনই কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেবে, ইরানও তাতে পূর্ণ সায় দেবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মিসরের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই। যখনই মিসরে আমাদের বন্ধুরা আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে, আমরাও তা করতে প্রস্তুত আছি।
সামগ্রিকভাবে, ৩০ আগস্টের এই অনুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জোরালো বার্তা দিয়েছেন। মোজতবা খামেনির শত্রু শনাক্ত ও প্রতিরোধের আহ্বান এবং আব্বাস আরাঘচির মিসরসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ঘোষণা ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির বড় দিকগুলোই তুলে ধরে।








