আজমেরী হক বাঁধনের লাঞ্ছনা ও দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আরশ খানের মন্তব্য
ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অভিনেতা আরশ খান। পাশাপাশি ‘জুলাইযোদ্ধা’ শব্দ, সাম্প্রতিক মব জাস্টিস এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেতা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সম্প্রতি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ইতালিতে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ঠিক এমন একটি সময়ে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের লাঞ্ছনা এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন অভিনেতা আরশ খান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, শুধু বাঁধন আপা কেন, কোনো নারীর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটা তিনি সমর্থন করেন না।
আজমেরী হক বাঁধনের লাঞ্ছনার ঘটনার পাশাপাশি আরশ খান কথা বলেছেন ‘জুলাইযোদ্ধা’ শব্দটিকে কেন্দ্র করে। এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, তিনি ‘জুলাইযোদ্ধা’ শব্দটা নিজের সঙ্গে নিতে চান না। এই শব্দটার সঙ্গে যে মূল্য, সততা ও নিরপেক্ষতা থাকা উচিত ছিল, তার কোনোটাই এখন নেই। এই শব্দটা এখন কুৎসিত হয়ে গেছে এবং এই শব্দটা বিকৃত করে অনেক মানুষ ফায়দা লুটেছে। যার কারণে যখন এই শব্দটা শোনা যায়, তা এখন আর শ্রুতিমধুর লাগে না।
আন্দোলন ও রাজপথের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেতা আরশ খান জানান, তিনি যে বাচ্চাগুলোর জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন, যারা উত্তরার স্কুল বা মাইলস্টোনে পড়ে, তারা কেউ পলিটিকস করছে না। তারা এখন পড়ালেখাই করছে। তিনি ওই বাচ্চাগুলোর জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন এবং তাদের জন্য দরকার পড়লে আবার রাস্তায় নামবেন বলে উল্লেখ করেন। তাদের জন্য যত দূর যেতে হয়, তিনি তা যাবেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও মব জাস্টিস বা বিচারবহির্ভূত সহিংসতা নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন আরশ খান। তিনি বলেন, তাঁর মস্তিষ্ক বা তাঁর স্বল্প শিক্ষা, যেটাতে তিনি বড় হয়েছেন, সেটা তাঁকে বলে যে—গতকাল রাতের না শুধু, রিসেন্ট টাইমে যেখানে যত মব হয়েছে, এটা হওয়াই উচিত না। দেশে আইন আছে, যদি কারো ব্যাপারে কোনো সন্দেহ থাকে কিংবা কাউকে নিয়ে কোনো জটিলতা থাকে, তাহলে আইনের সহায়তা নিয়ে সেটা করা উচিত।
চব্বিশের জুলাইয়ের পরিস্থিতি আর বর্তমান সময়ের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে আরশ খান বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে দেশ যে পরিস্থিতিতে ছিল, এখন তো সে অবস্থায় নেই। এখন তো সবকিছু শান্ত। তাঁর মতে, দেশের মানুষগুলো কয়েক বছর ধরেই তো দেখছে যে নারীদের রাস্তাঘাটে বেধড়ক পেটানো হচ্ছে। এটা কি গতকাল রাতে প্রথমবার দেখা গেল? না। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া মব জাস্টিস এবং নারীদের ওপর সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করেন।
দেশের মানুষের রাজনৈতিক বিভাজন ও মানসিকতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আরশ খান মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে আসলে মানুষ থাকে না। এখানে থাকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত। ব্যাপারটা এখন এ রকম হয়ে গেছে যে আমরা যে সবকিছু ছাপিয়ে মানুষ এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানুষ—এটাই ভুলে গিয়েছি। একটা দেশে যখন একটা জিনিস লম্বা সময় ধরে প্র্যাকটিস হতে থাকে, তখন আসলে সেটার বহিঃপ্রকাশ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে হয় এবং তিনি এটাকে সমর্থন করেন না।
সবশেষে আজমেরী হক বাঁধনের লাঞ্ছনা ও সামগ্রিক সহনশীলতা প্রসঙ্গে আরশ খান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, শুধু বাঁধন আপা কেন, কোনো নারীর সঙ্গে এমন হোক, এটা তিনি সমর্থন করেন না। কোনো পুরুষের সঙ্গে হোক, এটাও তিনি সমর্থন করেন না এবং কোনো শিল্পীর সঙ্গে হোক, এটাও তিনি সমর্থন করেন না। কারো মতামতের সঙ্গে নিজের মতামত না মিললে তার সঙ্গে কথা না বলা বা তার পথে না হাঁটার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো মানুষ ভুল বা অন্যায় করলে আইনের আশ্রয়ের মাধ্যমে তাকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।








