অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নিরাপত্তায় তৃতীয়পক্ষের অ্যান্টিভাইরাস
আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বিল্ট-ইন নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও বাড়ছে নানা সাইবার ঝুঁকি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ক্ষতিকর পুশ নোটিফিকেশন তিনগুণ বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বর্তমান সময়ে আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলো বাজারের আসার সময়ই বক্সের ভেতরে বিভিন্ন শক্তিশালী বিল্ট-ইন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আসে। এর মধ্যে অন্যতম হলো গুগল প্লে প্রটেক্ট, অ্যাপ স্যান্ডবক্সিং, নিয়মিত নিরাপত্তা আপডেট এবং একটি সক্রিয় অনুমতি বা পারমিশন সিস্টেম। এই বহুমুখী সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
তবে এতকিছুর পরেও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের প্রযুক্তিগত প্রেক্ষাপটে ম্যালওয়্যার ও অনলাইন প্রতারণার মাত্রা অনেক গুণ বেড়ে গেছে। ফলে ব্যবহারকারীদের ডিভাইস সুরক্ষায় তৃতীয়পক্ষের অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও বিশ্লেষণ অব্যাহত রয়েছে।
গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কেবল ২০২৫ সালেই তারা প্লে স্টোর থেকে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ নতুন ক্ষতিকর অ্যাপ ব্লক করতে সক্ষম হয়েছে। এই বিশাল সংখ্যাটি প্রমাণ করে যে স্মার্টফোনে ক্ষতিকর সফটওয়্যারের আক্রমণ কতটা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং টেক জায়ান্টগুলো সুরক্ষায় কীভাবে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছে।
শুধু ক্ষতিকর অ্যাপই নয়, অন্যান্য সাইবার ঝুঁকির মাত্রাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জানা গেছে, ২০২৫ সালের জেন (Gen) এর একটি হুমকি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যালওয়্যারযুক্ত পুশ নোটিফিকেশন মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধরনের আক্রমণ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে থাকে।
ব্যবহারকারীদের এসব ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে গুগল নতুন কিছু উন্নত ফিচার যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফোন কল স্পুফিং সুরক্ষা ব্যবস্থা, এসএমএস ফরোয়ার্ডিংয়ের মতো সন্দেহজনক কার্যক্রমের জন্য রিয়েল-টাইম বা লাইভ হুমকি সনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ সাইডলোডিংয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, গুগলের নিজস্ব এবং নতুন প্রবর্তিত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের সাইবার হুমকি থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রাচীর তৈরি করে। তা সত্ত্বেও, উদীয়মান হুমকি মোকাবেলায় ব্যবহারকারীদের সচেতনতা এবং সামগ্রিক সুরক্ষা কৌশল অত্যন্ত জরুরি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।








