অর্থনীতির রূপান্তর নিয়ে জিইডির নতুন পাঁচ বছরমেয়াদি প্রতিবেদন প্রকাশ
অর্থনৈতিক fragility থেকে prosperity-র দিকে যাত্রার রূপরেখা দিয়ে পাঁচ বছরমেয়াদি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। ২০২৬–২৭ থেকে ২০৩০–৩১ অর্থবছর মেয়াদি এই প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং মাথাপিছু আয় বাড়ানোর নানা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) 'Transforming Economy from Fragility to Prosperity' শীর্ষক একটি নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে অর্থনীতিকে ভঙ্গুরতা থেকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে মূলত আগামী পাঁচ বছরের জন্য অর্থনৈতিক লক্ষ্য এবং কাঠামোগত সংস্কারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষভাবে ২০২৬–২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০৩০–৩১ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ের জন্য এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেশের মাথাপিছু গড় আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাথাপিছু গড় আয় ৪ হাজার ৫৯১ মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য হাতে নেওয়া হয়েছে। বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু গড় আয় ছিল ২ হাজার ৯৫৮ ডলার। এই হিসাবে, পাঁচ বছরের পরিকল্পনা শেষে দেশের মানুষের আয় ১ হাজার ৬৩৩ ডলার বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে।
এ ছাড়া অর্থনীতির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক নিয়েও পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা। তুলনামূলকভাবে, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও এই প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থনীতিতে স্বস্তি আনতে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ২০৩০–৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন এই প্রতিবেদনে উদ্যোক্তা ও তরুণদের সহায়তার জন্য বিশেষ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৫৬০ জন তরুণকে স্টার্টআপ ফান্ড থেকে অর্থ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবছর ১ হাজার ২০০ নারী উদ্যোক্তাকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে এই প্রতিবেদন বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে একটি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে এই পাঁচ বছরমেয়াদি পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।








