৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ফখরুলের জয়, ভোট দিলেন না ৬ জন
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। তবে ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন রুমিন ফারহানাসহ ছয়জন সংসদ সদস্য।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন পর এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ভোটাভুটিতে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
তবে এই নির্বাচনে সব ভোটার অংশ নেননি। রুমিন ফারহানাসহ মোট ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন। ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রুমিন ফারহানা এই নির্বাচন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
ভোট বর্জন ও নির্বাচন প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, 'আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।'
তিনি আরও প্রশ্ন তুলে বলেন, 'এত বড় একটি গণ-অভ্যুত্থান গেল, যার সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মত্যাগ, অনেক স্বপ্ন জড়িত। তাহলে আমরা সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে পারলাম না।'
সংবিধান ও দলের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, 'রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দিল। অথচ ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ভিশন ২০৩০-এ গলার রগ ফুলিয়ে কথা বলছে। এখন তারা বলছে, দলের বাইরে ভোট দিলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে। এ রকম প্রহসনের ভোট আমি কেন দেব?' তিনি এই নির্বাচনকে 'অর্থহীন এবং প্রহসনের' বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে ভোটগ্রহণের দিনে শারীরিক অসুস্থতা ও অন্যান্য কারণে কিছু সংসদ সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিৎসাধীন ও অসুস্থতার কারণে ভোট দিতে আসেননি। এ ছাড়া আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করায় জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই ভোটদানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। প্রথম আলো, সমকাল ও চ্যানেল ২৪-এর সংবাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিএনপি ছাড়াও খেলাফত মজلিস, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।








