২০২৬ সালে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ কমার পূর্বাভাস দিয়েছে আইইএ
শুক্রবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) মাসিক প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ হামলার জেরে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) গত শুক্রবার তাদের মাসিক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ কমা এবং তেলের বাজার সংক্রান্ত নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথে তেলবাহী জাহাজে হামলা বেড়ে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলা এই অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইইএ-এর নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের সরবরাহ দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল বা প্রায় ৬ শতাংশ কমতে পারে। অথচ এর আগে সরবরাহ কমার পূর্বাভাস ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাওয়ায় এই সংশোধন আনা হয়েছে।
সরবরাহ হ্রাসের এই প্রবণতা ইতিমধ্যে মজুতের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। আইইএ জানিয়েছে, গত আগস্ট মাসে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত দৈনিক ৩১ লাখ ব্যারেল কমে গেছে। এর ফলে বিশ্বের মোট তেলের মজুত হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ৭৮০ কোটি ব্যারেলে নেমে এসেছে।
সরবরাহ সংকটের বড় চিত্রটি সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়েছে প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবের ক্ষেত্রে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আগস্ট মাসে একা সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ দৈনিক ২৩ লাখ ব্যারেল কমে মাত্র ৬০ লাখ ব্যারেলে নেমে গেছে।
এদিকে শুধু সরবরাহ বা মজুত নয়, চাহিদার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আইইএ-এর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বে তেলের চাহিদা দৈনিক ২৫ লাখ ব্যারেল কমতে পারে, যেখানে এর আগে চাহিদা কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল ১৬ লাখ ব্যারেল।
তবে দীর্ঘমেয়াদি বাজারের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আশার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ২৬ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।








