১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন প্রস্তাব অনুমোদন
বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে কাতার থেকে অতিরিক্ত এলএনজি আমدানি এবং টিসিবির জন্য মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৪৬· ১ মিনিট পড়া

বুধবার রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে দেশের জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে কমিটির অন্যতম সদস্য ও নীতিনির্ধারক হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সরকারের তরফ থেকে এই বিশাল অংকের অর্থ ব্যེয়ের মাধ্যমে জনগুরুত্বপূর্ণ ও বিভিন্ন সেবামূলক খাতের প্রয়োজন মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে আমদানির জন্য মোট ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি তেল আমদানির এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সূত্রে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি, ইউনিপেক, পেট্রোচায়না এবং বিএসপির মতো নাম উঠে এসেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি দেশের বর্ধিত শক্তির চাহিদা পূরণে বৈঠকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত এক কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কারখানার গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কাঠামোর মাধ্যমেই এই অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি করা হবে।
এদিকে সাধারণ মানুষের মাঝে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণের দায়িত্বে থাকা টিসিবির কার্যক্রম গতিশীল রাখতে নতুন পণ্য আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে। সরকারের ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে এই ডাল আমদানিতে মোট ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর বাইরে বৈঠকে আরও কিছু নির্দিষ্ট আর্থিক পরিসংখ্যান অনুমোদন পেয়েছে, যার মধ্যে ৬১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার ৫৭৩ টাকা এবং ২১৫ কোটি টাকার বিভিন্ন ক্রয় বা সেবামূলক কাজের হিসাব রয়েছে।
দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও নদীভাঙন রোধে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যমুনা নদীর তীর রক্ষায় টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলায় একটি বড় প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১ হাজার ৬২৫ মিটার নদীতীর সংরক্ষণকাজ সম্পন্ন করা হবে। যমুনার ভাঙন থেকে স্থানীয় জনপদ ও বসতি রক্ষা করতে এই সংরক্ষণকাজে মোট ১৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে, সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করার লক্ষে ঢাকা ওয়াসা সংক্রান্ত কিংবা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর পাশাপাশি উপরোক্ত জ্বালানি তেল, এলএনজি, মসুর ডাল এবং নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তগুলোর সফল বাস্তবায়ন দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জনকল্যাণমূলক সেবাসমূহ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।








