স্পটিফাই আনছে এআই পারসোনা ব্যাচ ও ভেরিফায়েড বাই স্পটিফাই সিস্টেম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি শিল্পীদের প্রোফাইল শনাক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রিয় অডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে চালু হচ্ছে ‘এআই পারসোনা ব্যাচ’ এবং ‘ভেরিফায়েড বাই স্পটিফাই’ ব্যবস্থা।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

জনপ্রিয় অডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি শিল্পীদের প্রোফাইল শনাক্ত করতে নতুন এক ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের আওতায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ‘এআই পারসোনা ব্যাচ’ এবং ‘ভেরিফায়েড বাই স্পটিফাই’ সিস্টেম চালু করা হবে, যার মাধ্যমে শ্রোতারা সহজে বুঝতে পারবেন কোন শিল্পীর প্রোফাইলটি এআই দ্বারা সৃষ্ট আর কে প্রকৃত মানুষ। গত ১১ আগস্ট এই বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয় এবং আগামী ১৫ আগস্টের সূত্রে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সামনে আসে।
স্পটিফাইয়ের এই নতুন নীতির মূল ফোকাস হলো শিল্পীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে গান তৈরির প্রক্রিয়া নয়, বরং শিল্পীর সেই জনসমক্ষে উপস্থাপন করা পাবলিক পরিচয়টি আসল নাকি এআই দ্বারা তৈরি। অর্থাৎ, কোনো শিল্পীর পাবলিক পরিচিতি যদি কোনো বাস্তব মানুষের প্রতিনিধিত্ব না করে, তবে তা চিহ্নিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নিয়মের অংশ হিসেবে স্পটিফাইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘এআই পারসোনা ব্যাচটি’ সংশ্লিষ্ট শিল্পীর প্রোফাইলের ব্যানার এবং অ্যাবাউট বা পরিচিতি অংশে প্রদর্শিত হবে। এ ছাড়া সার্চ ফলাফল এবং প্লেলিস্টে থাকা ট্র্যাকগুলোর ক্ষেত্রেও এই ব্যাচটি দেখতে পাবেন শ্রোতারা।
স্পটিফাইয়ের এই পদক্ষেপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রোফাইলগুলোর ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধও রাখা হয়েছে। যেসব শিল্পীর প্রোফাইলে এআই পারসোনা ব্যাচ থাকবে, তারা ব্যবহারকারীদের পার্সোনালাইজড বা ব্যক্তিগত সুপারিশে স্থান পাবেন না—যদি না সেই ব্যবহারকারী আগে থেকেই ওই এআই শিল্পীকে অনুসরণ করে থাকেন।
এর পাশাপাশি, কোনো শিল্পী যদি তাদের গান তৈরির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টুল ব্যবহার করে থাকেন, তবে তারা স্পটিফাইয়ের ‘এআই ক্রেডিট’ ফিচারের মাধ্যমে তা প্রকাশ করতে পারবেন। অন্যদিকে, কোনো শিল্পী যে একজন প্রকৃত মানুষ, তা নিশ্চিত করতে প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত করা হয়েছে ‘ভেরিফায়েড বাই স্পটিফাই’ সিস্টেম।
স্পটিফাই এই পুরো ব্যবস্থার পেছনের যুক্তি তুলে ধরে জানিয়েছে যে, সত্যিকারের শিল্পী এবং ভক্তদের মধ্যকার সংযোগ কেবল বিশ্বাস এবং সত্যতার ভিত্তির ওপরই গড়ে উঠতে পারে। এই বিষয়ের সাথে একমত পোষণ করে অ্যালেক্স উইন নামের এক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, এটি এমনভাবে মানুষের বিভাজন ঘটায় যে কারা সঠিকভাবে গান তৈরি করেছে আর কারা কেবল এআই ব্যবহার করছে তা আলাদা করা যায়।
তবে শ্রোতাদের মাঝে এআই মিউজিক নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। লিয়ন কিনান নামের এক শ্রোতা স্পষ্ট করে বলেছেন যে তিনি নিশ্চিতভাবেই এআই মিউজিক পছন্দ করেন না এবং এটি অত্যন্ত খারাপ, কারণ সঙ্গীতের মূল বিষয়টি অনুরাগের সাথে জড়িত। অন্যদিকে এলি সামনার নামের আরেক শ্রোতা স্বীকার করেছেন যে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে খুব সহজেই স্পষ্ট মনে হতে পারে এবং হয়তো বাবা-মা বা দাদা-দাদির এই ফাঁদে পড়ার বিষয়টি দেখে ছোট করা যায়, কিন্তু তিনিও অতীতে নিশ্চিতভাবেই এআইয়ের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।








