সৈয়দপুরে জমে উঠেছে শতকোটি টাকার শুঁটকির বাজার
নীলফামারীর সৈয়দপুরের ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি বাজারে বছরে ১০০ কোটি টাকার বেশি বেচাকেনা হয়। প্রায় ৪২-৪৫ বছরের পুরোনো এই বাজারে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ১৮ থেকে ২০ টন শুঁটকি পাঠানো হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত শুঁটকি বাজারটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পুরোনো বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪২-৪৫ বছরের পুরোনো এই বাজারটি এখন সম্প্রসারিত হয়ে বিশাল আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে এই বাজারে নিবন্ধিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩০০। এই ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন আবুল হোসেন বিশ্বাস, আফতাব উদ্দিন বিশ্বাস, আমির হোসেন দেওয়ানি ও আলমগীর হোসেনের মতো বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা ধরনের শুঁটকি সংগ্রহ করা হয় এই বাজারে। চট্টগ্রাম ছাড়াও খুলনা, মহিপুর, কুয়াকাটা, ভোলা, বরিশাল, পাবনা, আত্রাই ও কুটি থেকে শুঁটকি আসে এখানে। মুন্সি মার্কেট কেন্দ্রিক এই কার্যক্রমে প্রায় ২৫০ প্রজাতির শুঁটকি পাওয়া যায়, যা ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদা মেটায়।
বর্তমান সময়ে এই শুঁটকি বাজারের ব্যবসা ও পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এই পণ্যের চাহিদা অন্তত ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, এই বাজারে গড়ে ১০ শতাংশ লাভ থাকে এবং বর্তমানে বছরে ১০০ কোটি টাকার বেশি শুঁটকি বেচাকেনা হয়।
সৈয়দপুরের এই বাজার থেকে নিয়মিত বড় পরিমাণে পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ টন শুঁটকি এই বাজার থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। মূলত সপ্তাহের নির্দিষ্ট সময়ে এই বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি জমে ওঠে এবং মূল বেচাকেনা জমে ওঠে সপ্তাহে দুই দিন—শনিবার ও মঙ্গলবার।
স্থানীয় ব্যবসার গণ্ডি পেরিয়ে সৈয়দপুরের শুঁটকি আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, সৈয়দপুরের শুঁটকি এলসির মাধ্যমে ১৯৯৬-৯৭ সাল থেকে ভারতে রপ্তানি হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে।








