সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ড্রামার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি মাইক্রো-ড্রামার জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। মেটা ও অরম্যাক্স মিডিয়ার যৌথ গবেষণা এবং বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্যে উঠে এসেছে এসব কনটেন্টের নানা দিক।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিডে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ছোট আকারের ধারাবাহিক ভিডিও বা মাইক্রো-ড্রামার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এআই ড্রামা বলতে মূলত এমন সব ছোট আকারের ধারাবাহিক ভিডিওকে বোঝানো হয়, যেখানে চরিত্র, দৃশ্য, কণ্ঠস্বর, সংলাপ বা ভিডিওর বড় অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়। ২০২৬ সালের ৩০ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল তথা বাংলাদেশ, চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোতে এই নতুন ধারার কনটেন্ট দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিডের মাধ্যমে এসব কনটেন্ট খুঁজে পাওয়ার হার বেশ লক্ষণীয়। মেটা ও অরম্যাক্স মিডিয়ার যৌথ গবেষণার (ভারত) তথ্য অনুযায়ী, ৮৯ শতাংশ দর্শক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিডের মাধ্যমে এসব কনটেন্ট খুঁজে পান। একই গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৪৭ শতাংশ দর্শক এআই নির্মিত মাইক্রো-ড্রামাকে নতুন ও সৃজনশীল বলে মনে করেছেন। এছাড়া ভারতে মাইক্রো-ড্রামা দর্শকদের সাপ্তাহিক দেখার সময়ের মধ্যমা হলো সাড়ে ৩ ঘণ্টা এবং এর প্রায় ৯০ শতাংশ দর্শন একা একা হয়ে থাকে।
এআই মাইক্রো-ড্রামার উৎপাদন বৈশ্বিক পর্যায়ে, বিশেষ করে চীনে ব্যাপক আকার নিয়েছে। চায়না নেটকাস্টিং সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনে প্রায় ১ লাখ শর্ট ড্রামা প্রকাশিত হয় এবং এর প্রায় ৯৫ শতাংশই ছিল এআই-নির্ভর। চীনের এই বিশাল উৎপাদন খাত বিশ্বজুড়ে শর্ট ড্রামা বা মাইক্রো-ড্রামার বাজারকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে।
তবে এত জনপ্রিয়তার মাঝেও এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এআই ড্রামার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা এখনও চরিত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ফলে ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে অনেক সময় চরিত্রের চেহারার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, যা নির্মাতাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ছোট আকৃতির কনটেন্টগুলোর দর্শকপ্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে। দর্শকরা ঘরে বসেই মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইসে একা একা এসব ড্রামা উপভোগ করছেন। প্রযুক্তির উৎকর্ষের সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে এআই ড্রামার উৎপাদন ও দর্শকসংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।








