সরকারি সংস্থার জন্য আসছে অভিন্ন দরতালিকা
সরকারি কেনাকাটায় পণ্যের অস্বাভাবিক দর ও বৈষম্য কমাতে সব প্রকৌশল সংস্থার জন্য একটি অভিন্ন দরতালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৩ মে একনেক সভায় একটি কমিটি গঠন করা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সরকারি কেনাকাটায় পণ্যের অস্বাভাবিক দর ও বৈষম্য কমাতে দেশের সব সরকারি প্রকৌশল সংস্থার জন্য একটি অভিন্ন দরতালিকা বা রেট শিডিউল করার বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কেনাকাটার ক্ষেত্রে পণ্যের দামের বৈষম্য ও অতিরিক্ত দর প্রস্তাবের ঘটনা প্রায়ই আলোচনায় আসে, যা রোধ করতেই এই নতুন ব্যবস্থা চালুর চিন্তা করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিভিন্ন প্রকল্পের দর তফসিল বা রেট শিডিউল গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং তা পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একনেক সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দর তফসিল মূল্যায়ন ও পুনর্নির্ধারণের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে। এই কমিটি সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো সূত্রে জানা যায়, অতীতে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটায় চরম অনিয়ম ও অস্বাভাবিক দামের নজির দেখা গেছে। এর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের নাম উল্লেখযোগ্য।
তথ্য অনুযায়ী, অতীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে বালিশ কেনার ক্ষেত্রে দাম ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৯৫৭ টাকা থেকে ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি বালিশের দর প্রস্তাব করা হয়েছিল ২৭ হাজার ৭২০ টাকা।
শুধু বালিশ নয়, চিকিৎসাসামগ্রী ও ল্যাব উপকরণের ক্ষেত্রেও অবিশ্বাস্য দাম প্রস্তাবের নজির রয়েছে। এসবের মধ্যে গগলসের দাম ৫ হাজার টাকা, হ্যান্ড গ্লাভস ৩৫ হাজার টাকা এবং রক্ত পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষুদ্রাকার টিউবের দাম ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছিল।
মূল্য নির্ধারণ ও মুদ্রাস্ফীতির তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, ২০২০ সালে প্রতি ডলারের গড় মূল্য ছিল ৮৪ টাকা। আর ২০২৬ সালের চলতি সময়ে প্রতি ডলারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকায়। এসব বিষয় সামনে রেখেই ভবিষ্যতে সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনতে এই অভিন্ন দরতালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।








