সংসদে মন্ত্রীদের কথা বলার সময় নিরবতার নির্দেশ
জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার বিঘ্ন ঘটায় ধর্মমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে আস্তে ও বসে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই ঘটনা ঘটে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানী ঢাকার জাতীয় সংসদে এক অভিনব ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেদিন জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর আলোচনা চলছিল। সংসদীয় কার্যক্রম চলাকালে এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় এবং সংসদের নিয়ম অনুযায়ী সব সদস্যের মনোযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
আলোচনাকালে সংসদের নির্ধারিত কার্যতালিকা অনুযায়ী বক্তব্য দিচ্ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা। তিনি যখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সংসদে তার বক্তব্য উপস্থাপন করছিলেন, তখন সংসদকক্ষের পরিবেশ নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়।
ঠিক সেই মুহূর্তে জাতীয় সংসদের ধর্ম মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুই শীর্ষপর্যায়ের ব্যক্তি নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। তারা হলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মন্ত্রীদের এই কথোপকথনের কারণে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার বক্তব্য প্রদানে বিঘ্ন ঘটে এবং তার কথা শুনতে অন্যদের সমস্যা হচ্ছিল। সংসদকক্ষের ভেতরে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ বা ফিসফিসানি বক্তব্যকে ব্যাহত করে, যা সংসদীয় রীতির পরিপন্থী।
পরিস্থিতي বিবেচনায় নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি সংসদকক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অন্য সদস্যের বক্তব্য স্পষ্টভাবে শোনার সুযোগ করে দিতে মন্ত্রীদের উদ্দেশে নির্দেশনা প্রদান করেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আস্তে আস্তে কথা বলুন, প্লিজ।"
তিনি আরও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "মাননীয় ধর্মমন্ত্রী এবং মাননীয় এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী, দয়া করে বসে কথা বলুন। আপনাদের পেছনে একজন বক্তব্য দিচ্ছেন। আস্তে আস্তে কথা বলুন, প্লিজ।" এছাড়া তিনি আরও যোগ করেন, "মাননীয় ধর্মমন্ত্রী এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী, বসে আস্তেধীরে কথা বলুন। যাতে ওনার কথা শুনতে পারি।" ডেপুটি স্পিকারের এই নির্দেশনার পর সংসদে পুনরায় শৃঙ্খলা ফিরে আসে।
তথ্যসূত্র: সমকাল
আপনার প্রতিক্রিয়া