শৈশবের যৌন নিপীড়নের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনলেন গায়িকা আনুশেহ আনাদিল
শৈশবে জাপանում এবং পরবর্তীতে ঢাকায় নিজের জীবনের যৌন নিপীড়নের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন জনপ্রিয় গায়িকা আনুশেহ আনাদিল। প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে তিনি এই ভয়াবহ স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি তিনি পথশিশু মুনিরের কাছ থেকে শোনা নির্যাতনের ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী আনুশেহ আনাদিল তার জীবনের এক ভয়াবহ ও ট্রমাটিক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। শৈশব ও কৈশোরে ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির নানা দিক তুলে ধরে তিনি সম্প্রতি একটি সুদীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছেন। সমাজের স্পর্শকাতর ও লুকায়িত এক সত্যকে সামনে এনে তার এই সাহসিকতা ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রকাশিত ওই প্রবন্ধে আনুশেহ আনাদিল তার শৈশবের একটি বিভীষিকাময় স্মৃতির কথা বর্ণনা করেছেন। তার বয়স যখন মাত্র ছয় কিংবা সাত বছর, তখন জাপানে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছিল। তিনি জানান, জাপানে অবস্থানকালে এক বয়স্ক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির দ্বারা তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, তার পরিবার ওই ব্যক্তিকে যথেষ্ট বিশ্বাস করত এবং সে পরিবারের পরিচিতজনদের একজন ছিল।
জাপানের শৈশবকালীন ঘটনার পাশাপাশি বাংলাদেশে কৈশোরে পদার্পণের পরের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন এই শিল্পী। আনুশেহ আনাদিল উল্লেখ করেন যে, পরবর্তী সময়ে বয়ঃসন্ধিকালে তাকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাস্তায় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। একা একা ঢাকা শহরের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাকে বিভিন্ন পুরুষের কাছ থেকে যৌন সহিংসতার শিকার হতে হয়েছে। প্রকাশ্য রাজপথেও নারীদের নিরাপত্তা যে কতটা বিপন্ন, তার এই বক্তব্যে সেটাই ফুটে উঠেছে।
প্রবন্ধে শুধু নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই নয়, সমাজের অবহেলিত এক শিশুর করুণ berättl-এর কথাও তুলে ধরেছেন আনুশেহ। ঢাকায় অবস্থানকালে মুনির নামের এক পথশিশুর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেই শিশুটি আনুশেহের কাছে নিজের জীবনের এক নির্মম সত্য প্রকাশ করে। মুনির তাকে জানায় যে, এক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সময় সেখানে এক ধর্মীয় শিক্ষক কর্তৃক সে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে মাদরাসা থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়।
আনুশেহ আনাদিলের লেখা এই প্রবন্ধটি দেশের মূলধারার গণমাধ্যম প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে। ব্যক্তিগত ট্রমা ও সমাজের নানা স্তরে ঘটে চলা অপরাধের ঘটনা এভাবে প্রকাশ্যে নিয়ে আসার মাধ্যমে তিনি মূলত শিশুদের সুরক্ষা এবং নারী নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে জোরালোভাবে সামনে এনেছেন। তার এই সাহসী প্রকাশনা সমাজের বিভিন্ন মহলে গভীর চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে এবং শিশুদের ওপর নির্যাতন বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছে।








