শূন্য পাস করা ২২৬ মাদ্রাসার প্রধানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শতভাগ ফেল করা ২২৬টি মাদ্রাসার প্রধানদের দেওয়া ব্যাখ্যা অসন্তোষজনক বলে জানিয়েছে বোর্ড। এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শতভাগ ফেল করা ২২৬টি মাদ্রাসার প্রধানদের ব্যাখ্যা অসন্তোষজনক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১১ আগস্ট বোর্ডের দেওয়া নির্দেশনার আলোকেই গত ২৩ আগস্টের মধ্যে এসব মাদ্রাসার প্রধানরা বোর্ডে উপস্থিত হয়ে তাদের ব্যাখ্যা দাখিল করেছিলেন।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই ২২৬ মাদ্রাসার প্রধানরা শতভাগ ফেল করেছেন। শূন্য পাশ করা এসব মাদ্রাসার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি উত্তরাঞ্চলে। আঞ্চলিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজশাহী অঞ্চলে ৭৪টি এবং রংপুরে ৪১টি মাদ্রাসা রয়েছে।
এছাড়াও বরিশাল ও ঢাকায় ২৯টি করে, খুলনায় ২৭টি এবং ময়মনসিংহে ১৮টি মাদ্রাসা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে কুমিল্লায় সাতটি এবং চট্টগ্রামে মাত্র একটি মাদ্রাসা রয়েছে। তবে সিলেট অঞ্চলে শূন্য পাশের তালিকায় কোনো মাদ্রাসা নেই বলে জানা গেছে।
শতভাগ ফেল করার কারণ হিসেবে মাদ্রাসার প্রধানরা বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরলেও তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রফেসর খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেছেন, ২২৬ মাদ্রাসার প্রধানরা শতভাগ ফেলের কারণ হিসেবে যে যুক্তি তুলে ধরেছেন, তাতে বোর্ড সন্তুষ্ট হতে পারেনি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই শিক্ষার্থী খুবই কম, পড়ালেখাও তেমন হয় না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বোর্ডের পক্ষ থেকে লিখিত সুপারিশ শিগিগরই মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।
মাদ্রাসার প্রধানদের দেওয়া এই ধরনের অজুহাত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বোর্ডের অন্য কর্মকর্তারাও। প্রফেসর মো. ফারুক আহম্মেদ এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন, কারিকুলাম পরিবর্তন বা মোবাইল আসক্তি যদি বড় কারণ হয়, তাহলে সাধারণ স্কুলের ফলেও একই প্রভাব থাকার কথা। আর মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা আরবি বিষয়ে ফেল করবে কেন?
নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী গত ২৩ আগস্ট ছিল ব্যাখ্যা দেওয়ার শেষ সময়। এর আগে গত ১১ আগস্ট এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা মেনে মাদ্রাসার প্রধানরা হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিলেও তা বোর্ডের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেনি।
পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর বোর্ড কর্তৃপক্ষ এখন কঠোর পদক্ষেপের দিকে যাচ্ছে। সে অনুযায়ীই অসন্তোষজনক ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত এসব মাদ্রাসার প্রধানদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে দাপ্তরিক সুপারিশ পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।








