শাহজালাল বিমানবন্দরে ল্যাপটপ ও ট্যাব আমদানির চালান আটক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণা ও কম মূল্য দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ ল্যাপটপ, ট্যাব ও আইপ্যাড আমদানির দুটি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ৫ হাজার ৫০০ ডলার মূল্য ঘোষণা করলেও মূল্যায়িত মূল্য এসেছে প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ টাকা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এবং কম মূল্য দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ ল্যাপটপ, ট্যাব ও আইপ্যাড আমদানির দুটি বড় চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গত ২৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত তথ্যে এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পায়।
আটক হওয়া এই চালান দুটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো সর্দার গ্লোবাল ট্রেড। এছাড়া চালানগুলোর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে ফাহিম ৫ স্টার লিমিটেড। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, আমদানিকারকরা অত্যন্ত সুকৌশলে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন।
তদন্তে জানা যায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই বিশাল পরিমাণের পণ্যের মোট মূল্য মাত্র ৫ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার ঘোষণা করেছিল। তবে কাস্টমস কতৃপক্ষের বিশদ মূল্যায়নে প্রকৃত মূল্য ধরা পড়ে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৮৬ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ২১ হাজার ৫৭০ টাকা।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, প্রথম চালানটির খালাস গত ১৩ আগস্ট স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তীতে ২৩ আগস্ট সেটির কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। প্রথম এই চালানটির মূল্যায়িত মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৩ হাজার ৫২৭ ডলার, যার বাংলাদেশি মুদ্রায় পরিমাণ ১ কোটি ২৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮৪ টাকা।
প্রথম চালানের কায়িক পরীক্ষায় ৭৪০টি ল্যাপটপ এবং ৬০টি ট্যাব ও আইপ্যাড পাওয়া যায়। এর ঠিক পরপরই দ্বিতীয় চালানটির ওপরও কড়া নজরদারি চালানো হয় এবং সেখানে আরও ল্যাপটপ ও ট্যাব-আইপ্যাড পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় চালানের মূল্যায়িত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪ হাজার ২৫৯ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮৬ টাকা। এই দ্বিতীয় চালানে পাওয়া গেছে ৪২৭টি ল্যাপটপ, ৩৫টি ট্যাব এবং ৫টি আইপ্যাড। সব মিলিয়ে দুটি চালানে সর্বমোট ১ হাজার ১৬৭টি ল্যাপটপ এবং ১০০টি ট্যাব ও আইপ্যাড জব্দ করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, কায়িক পরীক্ষায় আমদানিকৃত ল্যাপটপগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহৃত বা পুরাতন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশের আওতায় এই ধরনের ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে।








