শাহজালালে কাপড়ের রোলে লুকিয়ে আনা ১,৬৫৫ মোবাইল আটক
হংকং থেকে কাপড় আমদানির আড়ালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা ১ হাজার ৬৫৫টি চোরাই ও অবাণিজ্যিক মোবাইল ফোনের একটি চালান আটক করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, আটক করা এসব মুঠোফোনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে কাপড়ের রোলের আড়ালে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে আনা ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোনের একটি বিশাল চালান আটক করা হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে এই চালান আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। হংকং থেকে বিমানযোগে এই অবৈধ চালানটি ঢাকায় এসে পৌঁছায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চালানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে বা এয়ারফ্রেইট এলাকায় এসে পৌঁছায়। আমদানির নথিপত্র অনুযায়ী এই চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'থিনিয়াস এপিরিয়ালস লিমিটেড'-এর নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি হংকং থেকে কাপড় আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দাখিল করা নথিপত্র ও ঘোষণায় কেবল 'নিট ফেব্রিকস' বা কাপড় আমদানির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু বিমানবন্দর এলাকায় কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সন্দেহ হওয়ায় চালানটির ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয় এবং পরবর্তীতে এর কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়।
পরীক্ষা করার পর দেখা যায়, ঘোষিত কাপড়ের রোলের ভেতরে অত্যন্ত চতুরতার সাথে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন। ২০টি আলাদা প্যাকেজে মোট ৮৯৫ কেজি ওজনের এই চালানটি বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মোট ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইলের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মডেলের জনপ্রিয় হ্যান্ডসেট। এর মধ্যে ৪৫০টি রেডমি ১৪ সি এবং ১৫০টি রেডমি ১৫ সি মডেলের ফোন রয়েছে। এছাড়াও বাকি ১ হাজার ৫৫টি ফোনের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন চীনা ব্র্যান্ডের নতুন সেট এবং পুরোনো বা ব্যবহৃত আইফোন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, আটককৃত এই ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। কাপড়ের আড়ালে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এই বিশাল পরিমাণ চোরাই মোবাইল ফোন দেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘোষিত পণ্যের পরিবর্তে নিষিদ্ধ বা অননুমোদিত পণ্য আমদানির এই ঘটনায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান থিনিয়াস এপিরিয়ালস লিমিটেডের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চালানটির সাথে জড়িত অন্যান্য চক্রের সন্ধান পেতেও তদন্ত চলছে।








