রাষ্ট্রপতি পদে ফখরুল, খালেদা জিয়ার জন্মদিনে বিএনপির দোয়া
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তার রাজনৈতিক অবদান ও অতীতের নাট্যজীবন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে ১৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। একই দিনে বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই দিনে দেশনেত্রী জন্ম নিয়েছিলেন, যিনি বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশকে বারবার নেতৃত্ব ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং দলের ভেতরে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, বিএনপি যে একটি সত্যিকারের রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে, তার মূল কারিগর খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন সংগ্রাম ও লড়াই করে তিনি নিজের প্রশ্নে আপস করেননি এবং দলকে ধারণ করেছেন। তার কাজ, তার প্রেরণা আমাদের সবসময় অনুপ্রেরণা জোগায়।
ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা ও দলের লক্ষ্য সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, এই দিনে শপথ নেব, বিএনপি সত্যিকার অর্থেই এমন একটি গণতান্ত্রিক দলে পরিণত হবে, যে দল সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। তিনি আরও যোগ করেন, আজকে যখন বিএনপি সরকার গঠন করেছে, প্রতিটি মানুষের আশা খালেদা জিয়ার নীতি-ভিশন ২০৩০, পরবর্তীকালে তারই দলের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সামনের দিনগুলোতে কাজ করে যাবে। দলকে শক্তিশালী করবে এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখবে।
দোয়া মাহফিল ও রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অতীত জীবনের একটি ভিন্ন দিকও আলোচনায় উঠে আসে। তাঁর ছাত্রজীবনের অভিনয় ও নাট্যচর্চার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান যে তিনি অতীতে নাটকের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। নিজের নাট্যজীবন সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রজীবন থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে নাটকের সঙ্গে আমি জড়িত। এই ফণী পালিদের হাতে আমার হাতেখড়ি।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে চিত্রনায়ক রহমান তাঁর মামাতো ভাই। তিনি রহমান ও আনোয়ার হোসেনের মতো প্রথিতযশা শিল্পীদের সঙ্গে মঞ্চে অভিনয় করেছেন। নিজের সেই অতীত অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, নিঃসন্দেহে সাংস্কৃতিক জগৎটাই বেশি উপভোগ্যের বিষয়।
১৩ আগস্টের এই আয়োজনে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে রহমান, আনোয়ার হোসেন, ফণী ভূষণ পালি, রুহুল কবির রিজভী, মাওলানা আবুল হোসেইন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির হোসেন মাহমুদ চৌধুরী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং কাজী আবুল বাশারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সম্পৃক্ত ছিলেন। খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই দোয়া ও আলোচনা সভা দলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন অনুপ্রেরণা জোগায় বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।








