রাজধানীর বাজারে সবজির দামের ফারাক, বাড়ছে বেকারি পণ্যের দাম
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের তুলনায় হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগান বাজারে সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি রয়েছে। অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগামী শনিবার থেকে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়াতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সবজির দামে বড় ধরনের ফারাক লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে কারওয়ান বাজারের তুলনায় হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগান বাজারে সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হাতিরপুল কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি কাঁকরোল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, উচ্ছে ও ঝিঙা ৯০ টাকা এবং পটোল ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের এই দামের তারতম্যের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যাপারী নুর হোসেন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, সাধারণত দূরের বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা রাতের প্রথম ভাগে সবজি কেনেন। তখন সবজিগুলো তাজা থাকে এবং দামও কিছুটা বেশি থাকে। অন্যদিকে কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা সকালের দিকে সবজি কেনেন, যে কারণে তারা কিছুটা কম দামে কিনতে পারেন।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও কোনো স্বস্তি নেই। বর্তমানে খুচরা বাজারে ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। এছাড়া ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সবজির বাজারের এই অস্থিরতার মধ্যেই সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় থাকা বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে অথবা পণ্যের ওজন কমিয়ে মূল্য সমন্বয় করা হবে। টিসিবিসি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বেকারি পণ্য দাম বাড়ানোর পেছনের কারণ তুলে ধরে বলেন, গত ছয় মাসে আড়াই হাজার টাকার ময়দার বস্তা তিন হাজার ২০০ টাকা, ২৫-২৬ হাজার টাকার তেলের ড্রাম ৩৫-৩৬ হাজার হয়ে গেছে। এছাড়া চিনির বস্তাও পাঁচ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান, মূলত এই তিন কাঁচামাল দিয়েই বেকারির বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি তৈরি করা হয়। বাজারে ময়দার দাম ১১ শতাংশ, চিনির দাম ৫ শতাংশ এবং খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দর গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বেকারি মালিকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে এবং দাম সমন্বয় করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।








