রবীন্দ্রনাথ ও জসীমউদ্দীনের সঙ্গে নজরুলের পত্রযোগাযোগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নিয়মিত পত্রযোগাযোগ বজায় রাখতেন। এর মধ্যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কবি জসীমউদ্দীনের সঙ্গে তাঁর চিঠিপত্রের আদান-প্রদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বর্ণাঢ্য সাহিত্যিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন। চিঠিপত্রের মাধ্যমে তিনি সমসাময়িক সাহিত্যিক ও গুণীজনদের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান করতেন, যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক অধեয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই পত্রযোগাযোগের পরিধি কেবল সাধারণ যোগাযোগে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর মাধ্যমে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্নেহের এক অনন্য সম্পর্কের চিত্র ফুটে ওঠে। কলকাতা ও বাংলাদেশ উভয় অঞ্চলের সঙ্গেই তাঁর এই সাহিত্যিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের নানা দিক ছড়িয়ে রয়েছে।
নজরুল ইসলামের এই চিঠিপত্রগুলোর একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শান্তিনিকেতনের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর পত্রযোগাযোগ। দুই মহাপ্রাণের এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে নজরুল ইসলামের গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির প্রকাশ প্রায়ই ঘটত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর চিঠিপত্রের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে সর্বজনবিদিত। এই চিঠিপত্রগুলোর মাধ্যমে তৎকালীন সাহিত্যজগতের বিভিন্ন দিক এবং দুই কবির পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি কাজী নজরুল ইসলামের শ্রদ্ধার একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন মেলে তাঁর একটি চিঠির কথায়। কবিগুরুকে লেখা একটি চিঠিতে নজরুল ইসলাম শ্রদ্ধাভরে নিবেদন করেছিলেন, "গুরুদেব! বহুদিন শ্রীচরণ দর্শন করিনি।" এই একটিমাত্র উদ্ধৃতির মাধ্যমেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি নজরুলের অন্তहीन ভক্তি, টান এবং গুরুজনসুলভ শ্রদ্ধা নিখুঁতভাবে প্রকাশ পায়, যা তাঁদের মধ্যকার আত্মিক সম্পর্কের এক অনন্য দলিল।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও কাজী নজরুল ইসলাম প্রখ্যাত কবি জসীমউদ্দীনের সঙ্গেও নিয়মিত পত্রযোগাযোগ বজায় রাখতেন। পল্লীকবি হিসেবে খ্যাত জসীমউদ্দীনের সঙ্গে নজরুলের এই চিঠিপত্র আদান-প্রদান তাঁদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সাহিত্যিক সখ্যের পরিচয় বহন করে। তৎকালীন সাহিত্য অঙ্গনের নানা কর্মব্যস্ততার মাঝেও তাঁরা চিঠিপত্রের মাধ্যমে একে অপরের খোঁজখবর রাখতেন এবং সাহিত্যচর্চায় একে অপরকে উৎসাহিত করতেন।
কাজী নজরুল ইসলামের এই চিঠিপত্রগুলো কেবল ব্যক্তিগত যোগাযোগের গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিল না, বরং তাঁর সুপরিসর সাহিত্যিক জীবনের এক অনিবার্য অংশ ছিল। কবি মনসুর সাহেব, নাগরিক কিংবা হিজ মাস্টার্স ভয়েসের মতো বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর কর্মময় যোগাযোগের পাশাপাশি বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের সঙ্গে এই পত্রালাপ তাঁর বহিমুখী প্রতিভারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। কলকাতা এবং বাংলাদেশ কেন্দ্র-বিন্দুতে রেখে তাঁর এই চিঠিপত্রের পরিধি বিস্তৃত ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জসীমউদ্দীনের মতো প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের পত্রযোগাযোগ বাংলা সাহিত্যকে ঋদ্ধ করেছে। চিঠির পঙ্ক্তিতে পঙ্ক্তিতে ফুটে ওঠা সেই দিনগুলোর ঐতিহাসিক দলিল আজও গবেষক ও সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। এই চিঠিপত্রগুলো দুই বাংলার সাহিত্যিক মেলবন্ধনের এক অনন্য স্মারক হিসেবে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।








