যুক্তরাজ্যে রিফর্ম ইউকের সম্মেলনে বিদেশি অনুদান কেলেঙ্কারি
যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে আয়োজিত রিফর্ম ইউকের দলীয় সম্মেলন বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত একটি কেলেঙ্কারি ও গোপন তদন্তের কারণে ঢাকা পড়ে গেছে। চ্যানেল ৪ নিউজের অনুসন্ধানের জেরে দলের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদত্যাগ বা বরখাস্ত হয়েছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে আয়োজিত রিফর্ম ইউকের বার্ষিক দলীয় সম্মেলন একটি বড় ধরনের বিদেশি অনুদান কেলেঙ্কারি এবং গোপন তদন্তের ঘটনায় ব্যাপকভাবে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছে। এই সম্মেলনে দলের প্রধান নাইজেল ফারাজ একটি মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও পুরো আয়োজনটি মূলত দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ সংকট ও বিতর্কের কারণে ঢাকা পড়ে যায়। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেমস ওর এবং ড্যান জুকেসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাদের পদত্যাগ বা বরখাস্তের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ৪ নিউজ কর্তৃক একটি গোপন তদন্ত সম্প্রচারের মধ্য দিয়ে। ওই গোপন তদন্তে রিফর্ম ইউকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেমস ওর এবং ড্যান জুকেসের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রকাশ পায়। এই প্রতিবেদনের জেরে দলের ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং এই দুই কর্মকর্তা শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন অথবা দল থেকে তাদের বরখাস্ত করা হয়। এই ঘটনা দলটির ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে এবং সম্মেলনের মূল রাজনৈতিক এজেন্ডাকে আড়াল করে ফেলে।
উক্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বার্মিংহামে রিফর্ম ইউকের দলীয় সম্মেলনে একটি কিটোট বা মূল ভাষণ দেন দলের শীর্ষ নেতা নাইজেল ফারাজ। তবে তার এই বক্তৃতা নির্বিঘ্ন ছিল না। সম্মেলন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা তার বক্তব্যে বাধা প্রদান করেন এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান। এর ফলে অনুষ্ঠানস্থলে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা সম্মেলনটিকে আরও বেশি বিতর্কিত করে তোলে।
এই বিদেশি অনুদান কেলেঙ্কারির ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছে যে, রাজনৈতিক অর্থায়ন আইন লঙ্ঘিত হয়ে থাকতে পারে—এমন অভিযোগের একটি অভিযোগ পাওয়ার পর মেট্রোপলিটন পুলিশ বর্তমানে উপলব্ধ প্রমাণাদি মূল্যায়ন করে দেখছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এমন পদক্ষেপে দলটির আইনি জটিলতা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই সামগ্রিক বিতর্কের মাঝেও সম্মেলনে কিছু রাজনৈতিক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ফ্রান্সের ন্যাশনাল রেলি পার্টির সভাপতি জর্ডান বার্ডেলা এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি নাইজেল ফারাজের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ঘোষণা দেন। তবে সম্মেলনজুড়ে জেমস ওর ও ড্যান জুকেসকে নিয়ে বিতর্ক, চ্যানেল ৪ নিউজের গোপন তদন্তের প্রভাব এবং নাইজেল ফারাজের ভাষণে বিক্ষোভের ঘটনাটিই প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে ছিল।








