যুক্তরাজ্যে বিমান চলাচলে বিঘ্ন, দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল
যুক্তরাজ্যের বিমান নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বড় ধরনের ফ্লাইট বিপর্যয় ঘটেছে। দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। এই ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পরিবহন সচিব।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাজ্যের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ন্যাটসের (Nats) প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। গত মঙ্গলবার এই কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় এবং তা চার ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল। এই ত্রুটির ফলে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়।
বিমান চলাচল ব্যবস্থার এই গোলযোগের কারণে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই অচলাবস্থার ফলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এর আগে ২০২৩ সালে একই ধরনের ঘটনায় প্রায় ৭ লাখ যাত্রীAffected হয়েছিলেন এবং ২০২৫ সালের বিভ্রাটেও ১৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল।
এই নজিরবিহীন ফ্লাইট বাতিলের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে দেশটির সরকার। পরিবহন সচিব হেইডি আলেকজান্ডার (Heidi Alexander) এই ঘটনার একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে (Civil Aviation Authority) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
তবে এই কারিগরি ত্রুটির পেছনে কোনো সাইবার হামলার আশঙ্কা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে প্রশাসন। পরিবহন সচিব হেইডি আলেকজান্ডার নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো সাইবার আক্রমণ ছিল না। অর্থাৎ সাইবার হামলার বিষয়টি তিনি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন।
ঘটনাটির পর পরিবহন সচিব হেইডি আলেকজান্ডার আরও মন্তব্য করেছেন যে, তিনি বিশ্বাস করেন না এই সমস্যাটি অনিবার্য ছিল। অর্থাৎ যথাযথ পদক্ষেপ নিলে এটি এড়ানো যেত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এদিকে এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এয়ারলাইন্সগুলো। এয়ারলাইন্স ইউকের (Airlines UK) প্রধান টিম অলডারসলেড (Tim Alderslade) বলেছেন, এর ফলাফল এমন দাঁড়িয়েছে যে, অন্যদের ভুলের খেসারত বা বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলোকে, অথচ দায়ী সংস্থাগুলো নামমাত্র বা কোনো আর্থিক পরিণতির মুখোমুখিই হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এই সংস্থা ন্যাটসের (Nats) মালিকানার বড় একটি অংশ সরকারের হাতে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ৪৯ শতাংশ সরকারের মালিকানাধীন। এছাড়া এই সংকটের সময়ে হিথ্রো (Heathrow), ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ (BA), ইজিজেট (easyJet), ভার্জিন আটলান্টিক (Virgin Atlantic), উইজ এয়ার (Wizz Air), রায়ানএয়ার (Ryanair), মার্টিন রোলফে (Martin Rolfe) এবং সিরিয়াম (Cirium) এর মতো বিভিন্ন সংস্থাও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।








