ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের ১৭৩ বছরের ইতিহাসে অবকাঠামো সংকট
১৭৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে শিক্ষক ও অবকাঠামগত সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ১ হাজার ৭০৮ শিক্ষার্থীর জন্য শ্রেণিকক্ষ মাত্র ২২টি এবং শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে ৩টি। এর মধ্যেই বিদ্যালয়টি অসাধারণ একাডেমিক ফলাফল বজায় রেখেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ময়মনসিংহ জিলা স্কুল ১৮৫৩ সালের ৩ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ ইংরেজি বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দীর্ঘ ১৭৩ বছরের ইতিহাসে এই বিদ্যালয় বহু গুণী মানুষ তৈরি করেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১ হাজার ৭০৮ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে এত শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট প্রকট। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৪৭ জন এবং অনুমোদিত পদের মধ্যে ৩টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র ২২টি। অবকাঠামগত এই সংকটের কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ বর্ষাকালে জলাবদ্ধ থাকে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শুধু ক্লাসরুম বা মাঠ নয়, আবাসন সংকটেও ভুগছে বিদ্যালয়টি। শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য নির্মিত ছাত্রাবাসটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে দূরদূরান্ত থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ব্যবহারিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
এত সব সীমাবদ্ধতা ও সংকটের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। ২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় থেকে ১২২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং তাদের মধ্যে ৯৭ জন বৃত্তি লাভ করে, যার মধ্যে ৪৮ জন ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করে।
একইভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬ এ বিদ্যালয় থেকে ৬৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং তাদের মধ্যে ৪৮ জন বৃত্তি অর্জন করে, যার মধ্যে ২৬ জন ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করে। সার্বিক এসব তথ্য ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে প্রকাশিত হয়।








