মৌলভীবাজারের জুড়ীতে মাচা পদ্ধতিতে বারোমাসি তরমুজ চাষ
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় মাচা পদ্ধতিতে বারোমাসি তরমুজ চাষ করে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের এই উদ্যোগে ভালো ফলন ও লাভ পাওয়ায় অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:১৭· ১ মিনিট পড়া

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ডোমাবাড়ী গ্রামে মাচা পদ্ধতিতে প্রথমবারের মতো বারোমাসি তরমুজ চাষ করা হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে সিলেট অঞ্চলের কৃষিউন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই চাষাবাদ শুরু হয়। এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে এবং কম জমিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালো ফলন ও অধিক লাভ অর্জনের পথ সুগম হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক খুরশেদ আলম জানিয়েছেন যে, আধুনিক পদ্ধতিতে সিলেট অঞ্চলের কৃষিউন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিনি প্রথমে পরিবারের চাহিদা পূরণে বারোমাসি তরমুজ চাষ করেন। পরে দেখা গেলো এটি খুবই লাভজনক একটি ফল। তখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে তরমুজের চাষ শুরু করেন। তার সঙ্গে আরও অনেকেই তরমুজ চাষ শুরু করছেন। তিনি আরও জানান যে, তিন বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে তিন মাসে পাঁচ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।
এই সফলতার পেছনে আরও যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় কৃষক সিরাজুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম। চাষ শুরু করার সময় কিছুটা শঙ্কা থাকলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে কাজ করায় ভালো ফলন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাইদুল ইসলাম। তিনি আশা করছেন যে, তরমুজ বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন। অন্যদিকে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান যে, এবার সফলতা পাওয়ায় আগামীতে আরও বড় পরিসরে তরমুজ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
এলাকার মানুষের মধ্যে এই চাষাবাদ বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা খুরশেদ ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় গ্রামের মানুষ আস্তে আস্তে বারোমাসি তরমুজসহ বিভিন্ন জাতের ফসল চাষে মন দিচ্ছেন বলে জানান মোর্শেদ আহমদ। এছাড়া সাইন উদ্দিন উল্লেখ করেন যে, তাদের গ্রামের খুরশেদ বিভিন্ন জাতের ফসলের চাষ শুরু করেছেন। তাকে অনুকরণ করে অনেকেই এখন তরমুজ চাষি হয়েছেন। বাজারে বারোমাসি তরমুজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং দামও বেশি থাকায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।
শুধু চাষিরাই নন, এই ক্ষেতে কাজ করে আশপাশের মানুষও উপকৃত হচ্ছেন। আব্দুর রহিম বলেছেন যে, তারা অন্য কাজের পাশাপাশি বারোমাসি তরমুজ ক্ষেতে কাজ করেন এবং এর ফলে তাদের এখান থেকে অতিরিক্ত আয় হয়।
মাচা পদ্ধতিতে বারোমাসি তরমুজ চাষ প্রসঙ্গে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রনি সিং জানান যে, এটি এই এলাকায় একটি নতুন উদ্যোগ। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ে তদারকির মাধ্যমে এই সফলতা এসেছে এবং এখন অন্য কৃষকরাও নতুন প্রযুক্তি নির্ভর চাষে উৎসাহিত হবেন।
উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতার কথা জানানো হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেছেন যে, মাচা পদ্ধতিতে বারো মাসি তরমুজ চাষ কৃষির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কম জমিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালো ফলন ও অধিক লাভ করা সম্ভব। কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্ভাবনী কৃষি কার্যক্রমে পাশে থাকবে। প্রায় ২০ শতক জমিতে অমৌসুমে তরমুজ চাষ করে এই সাফল্য অর্জন করা হয়েছে।








