মুক্তির আগেই রেকর্ড গড়েছে যশ অভিনীত ‘টক্সিক’ সিনেমা
আসন্ন সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন–আপস’ মুক্তির আগেই আগাম টিকিট বুকিংয়ে রেকর্ড গড়েছে। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির প্রথম দিনের আগাম বুকিংয়ের আয় ২৭ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

আগামী ২৬ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ভারতীয় সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন–আপস’। ছবিটির পরিচালনা করেছেন গীতু মোহনদাস। মুক্তির আগেই এই সিনেমাটি নিয়ে দর্শক মহলে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, যার ফলে বক্স অফিসে এর অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ে বড় রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
বক্স অফিস ট্র্যাকিং সংস্থা স্যাকনিল্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির আগে এই সিনেমার ৪ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এর ফলে ছবিটির প্রথম দিনের আগাম বুকিংয়ের আয় ২৭ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, প্রথম দিনের আগাম বুকিংয়ের হিসাব অনুযায়ী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ৩৮ লাখ রুপি। এই বিশাল আয়ের পেছনে রয়েছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছবিটির ১২ হাজার ৬০৯টি শো।
বিভিন্ন ভাষা ও অঞ্চলের সংস্করণেও সিনেমাটি দারুণ সাড়া ফেলছে। এর মধ্যে শুধু কন্নড় সংস্করণের টুডি শো থেকেই আয় হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ রুপি। আর হিন্দি সংস্করণ থেকে আয় হয়েছে ৭ কোটি ৭২ লাখ রুপি। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে কর্ণাটকে ছবিটির জন্য ১ হাজার ৭৪৪টি শো বরাদ্দ করা হয়েছে এবং রাজ্যটিতে আয় হয়েছে ১০ কোটি ৬৯ লাখ রুপি। পাশাপাশি কর্ণাটকে ৭৪২টি শো প্রায় পূর্ণ রয়েছে।
অন্যান্য রাজ্যের বাজারেও ছবিটির শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। গুজরাটে ২ হাজার ৩১৯টি শো এবং মহারাষ্ট্রে ২ হাজার ১৮৯টি শো চালুর পাশাপাশি রাজ্য দুটিতে যথাক্রমে ১ কোটি ১৭ লাখ রুপি এবং ১ কোটি ৩৩ লাখ রুপি আয় হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গে ৮৯ লাখ ৫১ হাজার রুপি, দিল্লিতে ৮৭ লাখ ৯২ হাজার রুপি এবং উত্তর প্রদেশে ৮০ লাখ ২৯ লাখ রুপি আগাম আয় রেকর্ড করা হয়েছে।
‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন–আপস’ সিনেমায় একঝাঁক তারকা অভিনয় করেছেন। ছবিটিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা যশ। তাঁর সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্ত।
সিনেমাটি নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন নায়ক যশ। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “সিনেমাটি দেখুন, উপভোগ করুন। আমি নিশ্চিত, আপনারা দারুণ সময় কাটাবেন।” নারীদের সংগ্রাম ও সাফল্যের প্রসঙ্গে যশ বলেন, “আমি তরুণীদের কিছু বলতে চাই। এই সিনেমার পরিচালকও একজন নারী—গীতু মোহনদাস। জীবনে কিছু অর্জন করা সবার জন্যই কঠিন। তবে আপনাদের জন্য সেটা দ্বিগুণ কঠিন। সমাজ সব সময় হয়তো আপনাদের গ্রহণ করতে চাইবে না। মানুষ প্রশ্ন তুলবে—একজন নারী আবার কী করতে পারেন! আমিও এমন কথা শুনেছি।”
পরিচালক গীতু মোহনদাস সম্পর্কে যশ আরও যোগ করেন, “এই পরিচালক প্রমাণ করবেন, প্রত্যেক মেয়ে ও নারী যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন, নিজের চিন্তা ও ভাবনা প্রকাশ করতে পারেন এবং এই সমাজে নিজের শর্তে সফল হতে পারেন।” ট্রেলার প্রসঙ্গে তিনি জানান, “ট্রেলার যে ধারণা দিয়েছে, তার বিপরীতে এই সিনেমা সত্যিকার অর্থেই নারীদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরে।”
‘কেজিএফ’ সিনেমার সাফল্যের পর যশের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মানুষের ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কেজিএফ–এর পর মানুষ ভাবছিল, যশ কোন বড় পরিচালকের সঙ্গে কাজ করবে, কিংবা পরবর্তী কোন বাণিজ্যিক ফর্মুলা অনুসরণ করবে। কিন্তু সে (গীতু) বলেছিল, ‘আমার টাকার প্রয়োজন নেই। আপনি আমাকে ইতিমধ্যে যথেষ্ট দিয়েছেন।’” নিজের অর্জন ও সম্মান নিয়ে যশ স্পষ্ট করে বলেন, “আমার সম্পদের কারণে আমি সম্মান পাই না। আমি আমার কাজের জন্য সম্মান পাই।”








