ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: ৯ বাংলাদেশিসহ নিহত ১০
লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে রাবারের নৌকা ডুবে ৯ বাংলাদেশিসহ ১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ২৯ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে মিসরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অভিবাসন চেষ্টার সময় ভূমধ্যসাগরে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৯ বাংলাদেশিসহ মোট ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ৩ আগস্ট এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। মিসর, গ্রিস ও লিবিয়ার কাছাকাছি ভূমধ্যসাগরে এই ট্র্যাজেডি ঘটে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট একটি রাবারের নৌকায় করে লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা হয়েছিল। নৌকাটির ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ২৫ জনের। অথচ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ওই ছোট নৌকায় মোট ৪২ জন বাংলাদেশি ও সুদানি নাগরিক গাদাগাদি করে উঠেছিলেন।
অতিরিক্ত বোঝাইয়ের কারণে নৌকাটি মাঝসাগরে বিপদের মুখে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় ৯ বাংলাদেশিসহ মোট ১০ জন মারা গেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে ২৯ জন বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকৃত এই ২৯ জন বাংলাদেশিকে বর্তমানে মিসরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাস, কায়রো, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পুলিশ, ইউএনএইচসিআর এবং ফ্রন্টেক্সের তথ્યાদির সূত্রে এই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে।
চলতি বছরে লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টার সময় এটি দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা। এর আগে গত মার্চ মাসে ইতালি যাওয়ার পথে সমুদ্রপথে ১৮ জন বাংলাদেশি তরুণ মারা গিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ইউরোপে যাওয়ার জন্য দালালদের চটকদার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তরুণেরা এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। সাধারণত গ্রিস যাওয়ার জন্য ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং ইতালি যেতে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করা হয়।
প্রথম আলো ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে লিবিয়া থেকে ইতালিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ২৩১ জন বাংলাদেশি। এছাড়া ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আনুমানিক ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথ ব্যবহার করে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন।








