ভাড়াবাড়ির প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে গোপনীয়তার ঝুঁকি: নতুন প্রতিবেদন
ভাড়াবাড়ির প্রযুক্তি বা রেন্টটেক প্ল্যাটফর্মগুলো অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে ভিক্টোরিয়ার নতুন আইন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই শঙ্কার কথা জানিয়েছে কনজুমার পলিসি রিসার্চ সেন্টার।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া
ভাড়াবাড়ির প্রযুক্তি বা রেন্টটেক প্ল্যাটফর্মগুলোর কারণে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় পরিচালিত একটি গবেষণার ভিত্তিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। বেসরকারি সংস্থা কনজুমার পলিসি রিসার্চ সেন্টার (সিপিআরসি) এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। গত বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আনা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেন্টটেক প্ল্যাটফর্মগুলো অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়ার মাধ্যমে ভিক্টোরিয়ার নতুন আইনগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভাড়া গ্রহীতাদের কাছ থেকে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করাই এসব প্ল্যাটফর্মের মূল প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভাড়াবাড়ি বা রেন্টাল সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার উদ্দেশ্যে ভিক্টোরিয়া রাজ্য সরকার চলতি বছরের মার্চ মাসে একটি নতুন আদর্শ রেন্টাল আবেদন ফরম চালু করেছিল। মূলত ভাড়া গ্রহীতাদের কাছ থেকে তথ্য চাওয়ার পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে সরকারি এই উদ্যোগের পরও পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। কনজুমার পলিসি রিসার্চ সেন্টার গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত মোট ছয়টি রেন্টটেক প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। দীর্ঘ এই পর্যালোচনাতেই প্ল্যাটফর্মগুলোর গোপনীয়তা লঙ্ঘনের চিত্রটি ধরা পড়েছে।
সংস্থার উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চাঁদনি গুপ্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেছেন। তিনি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণ সম্পর্কে বলেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম রক্ষার খাতিরে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনবে এবং খুব সংকীর্ণভাবে তা অনুসরণ করবে। কিন্তু যেখানে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, সেখানে তারা কখনোই একই ধরনের সেবা বা ছাড় দেবে না।
ভাড়া গ্রহীতাদের সংগৃহীত ডাটা বা তথ্য কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হতে পারে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চাঁদনি গুপ্ত। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সংগৃহীত সেই তথ্য আপনার পক্ষে বা বিপক্ষে কীভাবে ব্যবহার করা হবে এবং এর মাধ্যমে আপনাকে ভাড়ার আসল প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না, তা নিশ্চিত করা সত্যিই খুব কঠিন। এমনকি এর মাধ্যমে আপনাকে ব্যক্তিগত নানা ধরনের পণ্য ও সেবার মুখোমুখি করা হতে পারে কি না, তাও নিশ্চিত নয়।
ভাড়া গ্রহীতা এবং এই প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে ক্ষমতার একটি স্পষ্ট ভারসাম্যহীনতা রয়েছে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করা ছাড়া ভাড়া গ্রহীতাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই এবং প্রতিবাদ করা কিংবা বিকল্প কোনো পথ খুঁজে নেওয়া তাদের জন্য একেবারেই সম্ভব নয়।
তথ্যসূত্র: The Guardian
আপনার প্রতিক্রিয়া