ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতা
মস্তিষ্কে চিপ বসানো বা ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উত্তেজনা শুরু হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসে গঠিত কমিশন সতর্ক করেছে যে এই খাতে পিছিয়ে পড়লে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

মস্তিষ্কে চিপ বসানো বা ব্রেইন ইমপ্ল্যান্ট প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বমঞ্চে নতুন এক কৌশলগত উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। উন্নত এই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। দুটি পরাশক্তিই এই সংবেদনশীল খাতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
মার্কিন কংগ্রেস গঠিত ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন অন এমার্জিং বায়োটেকনোলজি সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস বা বিসিআই প্রযুক্তিতে যদি যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়ে, তবে দেশটির সামরিক সক্ষমতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল তৈরির ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই প্রতিযোগিতায় চীনও বসে নেই। বরং তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চীন ইতিমধ্যে মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের হাতের নাড়াচড়া ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তির প্রথম বাণিজ্যিক অনুমোদন প্রদান করেছে, যা এই খাতের অগ্রযাত্রায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কোনো চিকিৎসা বাজারে আসতে সাধারণত গড়ে ১১ বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়। এই দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মার্কিন উদ্ভাবনের গতিকে মন্থর করে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
মার্কিন রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণী পরিমণ্ডলেও বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। এই প্রসঙ্গে মার্কিন রাজনীতিক টড ইয়ং অত্যন্ত জোরালো মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকার চেয়েও দ্রুত গতিতে বিসিআই-এর মতো কৌশলগত প্রযুক্তি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে চীন।
টড ইয়ং আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, মার্কিন উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণ টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে একটি একীভূত বায়োটেকনোলজি কৌশল গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, প্রযুক্তিগত এই লড়াইয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা চীনের ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে নিউরালিংক, প্রিসিশন নিউরোসায়েন্স এবং সিনক্রন-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত রয়েছে। তবে সামগ্রিক বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তি এখন দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান ময়দান হয়ে উঠেছে।








