ব্যালন ডি'অর নিয়ে মরিনিওর মন্তব্য
ব্যালন ডি'অর পুরস্কারের মানদণ্ড নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন জোসে মরিনিও। তাঁর মতে, শুধু ট্রফি জয়ই এই পুরস্কারের মাপকাঠি হওয়া উচিত নয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ফুটবল বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর পাওয়ার প্রকৃত মানদণ্ড কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে নিজের সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট ফুটবল ব্যক্তিত্ব জোসে মরিনিও। সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কেবল কোনো বড় টুর্নামেন্ট বা শিরোপা জয় করলেই কোনো খেলোয়াড়কে এই সম্মানজনক পুরস্কারের যোগ্য বিবেচনা করা ঠিক নয়।
মরিনিওর মতে, ব্যালন ডি’অর মূলত এমন সব খেলোয়াড়দের পাওয়া উচিত, যাঁদের অবদান অনন্য এবং যাঁরা ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকেন। বিশেষ করে, এই ফুটবলাররা যখন খেলাধুলা থেকে অবসর নেন, তখন তাঁদের অনুপস্থিতি গভীরভাবে অনুভূত হয় এবং বিশ্বজুড়ে সমর্থকরা তাঁদের আজীবন মিস করতে থাকেন।
নিজের এই বক্তব্যের সমর্থনে ফুটবলের কিংবদন্তি বেশ কয়েকজন তারকার নাম উল্লেখ করেছেন এই কোচ। তিনি বলেছেন, ম্যারাডোনা, রোনালদিনিও, নাজারিও, ক্রিস্টিয়ানো, মেসি, জিদান এবং ম্যাথাউসের মতো তারকাদের তিনি আজও মিস করেন। তাঁর মতে, এই ধরনের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই ব্যালন ডি’অরের আসল দাবিদার নির্ধারণ করে।
তিনি আরও জোরালোভাবে বলেন যে, কেবল চ্যাম্পিয়নস লিগ বা বিশ্বকাপ জয় করেছে বলেই কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে ব্যালন ডি’অর দিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। দলীয় সাফল্য বা ট্রফি জয়কে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ভিন্ন মাধ্যম রয়েছে, কিন্তু ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কারের ক্ষেত্রে বিচারপদ্ধতি ভিন্ন হওয়া দরকার।
এ প্রসঙ্গে লুইস এনরিকে ও লুইস দে লা ফুয়েন্তের কথাও টেনে এনেছেন মরিনিও। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যদি চ্যাম্পিয়নস লিগ বা দলের সাফল্যকে পুরস্কৃত করতেই হয়, তবে সেই পুরস্কার লুইস এনরিকেকে দেওয়া উচিত। একইভাবে স্পেনের সাফল্যের জন্য লুইস দে লা ফুয়েন্তেও এই সম্মান পাওয়ার যোগ্য।
কোচ মরিনিওর মতে, কোনো কোচ বা দলকে বা বিশেষ কোনো অর্জনকে শ্রদ্ধা জানানোর এটাই হতে পারে আসল উপায়। তবে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর মানদণ্ডও ভিন্ন হওয়া উচিত।
সর্বোপরি, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, কোনো খেলোয়াড় পিএসজি বা স্পেনেরই হতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। মূলত ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, ঐতিহাসিক প্রভাব এবং অবসরের পরও যাঁদের অভাব মানুষ অনুভব করে, তাঁদেরই ব্যালন ডি’অরের প্রকৃত দাবিদার হিসেবে দেখছেন জোসে মরিনিও।








