বিসিক থেকে ৫০ হাজার থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) দেশের ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করছে। চলতি বছর এই কার্যক্রমে বিভিন্ন তহবিলের আওতায় হাজার হাজার উদ্যোক্তা ঋণ সুবিধা পেয়েছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) দেশের ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চলতি বছর এই উদ্যোগের আওতায় উদ্যোক্তারা সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারছেন। দেশের ৬৪টি জেলায় থাকা বিসিক কার্যালয়গুলোয় সরাসরি আবেদন করে উদ্যোক্তারা এই ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এই ঋণ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো জামানত সহজীকরণ। উদ্যোক্তাদের জন্য দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সম্পূর্ণ জামানতমুক্ত রাখা হয়েছে। এই অংকের ঋণ নেওয়ার জন্য কেবল জামানত হিসেবে মাত্র একজন জামিনদার প্রয়োজন হয়, যা সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করে তুলেছে।
ঋণ বিতরণে নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুদের হারের ব্যবস্থা রয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে এই ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, পুরুষ উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে সুদের হার কিছুটা বাড়িয়ে ৬ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া উদ্যোক্তাদের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের মেয়াদ এক বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে।
বিসিকের বিভিন্ন বিশেষায়িত তহবিলের মাধ্যমে এই ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঋণ তহবিলের মোট আকার ২৭০ কোটি টাকা। এই প্রণোদনা তহবিল থেকে ইতিমধ্যে ৯ হাজার ২৯১ জন উদ্যোক্তা ঋণ পেয়েছেন। অন্যদিকে, ‘বিনীত’ ঋণ তহবিলের আকার ১৫০ কোটি টাকা এবং এই তহবিল থেকে ৮ হাজার ৮৭৩ জন উদ্যোক্তা ঋণ সুবিধা লাভ করেছেন।
পাশাপাশি মৌচাষিদের জন্য আলাদা তহবিলও পরিচালনা করছে সংস্থাটি। মৌচাষিদের ঋণ তহবিলের আকার ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং এই বিশেষ তহবিল থেকে ১ হাজার ৪৯৭ জন মৌচাষি ঋণ গ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন তহবিলের মাধ্যমে বিতরণ করা এসব ঋণ গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের ক্ষুদ্র শিল্প খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উদ্যোক্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক স্তর বিন্যাস রয়েছে। বিসিকের জেলা কার্যালয়গুলো সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অনুমোদন করতে পারে। এছাড়া ৫ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক কার্যালয় অনুমোদন দিয়ে থাকে। তবে ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ টাকার বেশি হলে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়।








