বিশেষ ব্যবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিল ৮ শিক্ষার্থী
ফরম পূরণে প্রতারণার শিকার নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী বিশেষ ব্যবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আসার পর তাদের প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করা হয়। ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাজশাহী ও নাটোর অঞ্চলে একটি বিশেষ মানবিক ঘটনার সাক্ষী হলো এইচএসসি পরীক্ষা। ফরম পূরণে প্রতারণার শিকার নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ৮ জন শিক্ষার্থী সোমবার বিশেষ ব্যবস্থায় রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। নানা জটিলতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এই আট শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।
এই শিক্ষার্থীদের বিপাকে পড়ার মূল কারণ ছিল কলেজের এক কর্মচারীর প্রতারণা। আব্দুলপুর সরকারি কলেজের গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার ফরম পূরণের কথা বলে এই ৮ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি তিন হাজার টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা নিয়েও তিনি নির্ধারিত সময়ে তাদের ফরম পূরণ করেননি, যার ফলে তারা শুরু থেকেই পরীক্ষার বাইরে থাকার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসরাত জাহান, ইফফাত জেরিন ও মো. মামদুদুর রহমানসহ অন্যরা এক সময় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আসে। শিক্ষামন্ত্রীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে শেষ মুহূর্তে ওই শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রবেশপত্র পাওয়ার পর পরীক্ষা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বেশ কসরত করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের অনেকেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। পরীক্ষার্থী ইমামুল হক গণমাধ্যમ জাগো নিউজকে বলেন, মেয়ের বাড়ি থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে। তাই পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে মেয়েকে নিয়ে আগেই রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছেন তিনি। ভোগান্তি থাকলেও মেয়ের পরীক্ষা দিতে পারায় তিনি আনন্দিত।
এদিকে শুধু এই আট শিক্ষার্থীই নন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বৃহত্তর পরিসরেও এমন কিছু বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিভিন্ন জেলার মোট ৪৬ জন পরীক্ষার্থী নানা কারণে কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে তাদের সেই বাদ পড়া পরীক্ষাগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় নেওয়ার উদ্যোগ নেয় শিক্ষা বোর্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফরম পূরণে প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত আব্দুলপুর সরকারি কলেজের গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বহু শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।








