বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সরকারের ছয় মাস পূর্ণ
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। একই সাথে সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে এবং দলটির বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমা পেরিয়ে ২০২৬ সালে এসে তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান সময়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত বা বর্তমান নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান, যিনি বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসন অর্জন করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। এর মধ্য দিয়ে দেশে দলটির সরকার গঠনের ছয় মাস ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। তবে সরকার গঠনের এই দীর্ঘ ছয় মাস সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। যদিও দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা এ পর্যন্ত মাত্র চারটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে বিএনপির সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দলটির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আর অনুষ্ঠিত হয়নি। সাংগঠনিক কাঠামোর এই স্থবিরতা কাটানোর বিষয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা নানা মতামত দিয়েছেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ বিষয়ে জানান যে, জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হলে সেটিকে কেন্দ্র করে জেলা পর্যায়ের কাউন্সিলগুলো সম্পন্ন করার কাজ শুরু হয়ে যাবে। যেসব জেলা, থানা ও ইউনিটে কাউন্সিল বাকি আছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। এ ছাড়া কর্মিসভা ও ওয়ার্কিং মিটিংয়ের মতো কার্যক্রমও নিয়মিত চলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশজুড়ে বিএনপির মোট ৮২টি সাংগঠনিক কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩১টিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে এবং ৪৯টিতে আহ্বায়ক কমিটি কাজ করছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, মাত্র আটটি জেলা ও মহানগর কমিটির মেয়াদ রয়েছে, আর বাকি ৭২টি কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এর বাইরে শেরপুর জেলা কমিটি বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। শুধু জেলা বা মহানগর নয়, বিএনপির যে ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে, সেগুলোর সবকটির কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ বলে জানা গেছে।
সরকার ও দলের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সতর্ক অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে আমিনুল হক মন্তব্য করে বলেছেন যে, যারা নেতা, তারাই তো এমপি-মন্ত্রী। স্থানীয় সরকারে প্রশাসকের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের অনেকেও রাজনৈতিক নেতা। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে খুব সতর্ক। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানে বলছেন, সরকারের কাজে দলের সহযোগিতা লাগবে, কিন্তু দল যেন সরকারের ভেতরে ঢুকে না যায়। এই নীতির আলোকে দল ও সরকার আলাদাভাবে কাজ করার ওপর জোর দিচ্ছে।
এদিকে দল ক্ষমতায় যাওয়ার পর অভ্যন্তরীণ সুযোগসন্ধানীদের নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয় বলে মনে করেন দলের নেতারা। এ বিষয়ে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মন্তব্য করেন যে, দল ক্ষমতায় গেলে সব সময় কিছু লোক ফায়দা লুটতে চায়। এদের কারণে দলের ত্যাগী নেতারা মূল্যায়ন পান না। এমন বাস্তবতায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠন এবং দলের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রেখে নতুন জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের মাধ্যমে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক অবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।








