বাতিল হলো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, এনটিআরসিএই করবে শিক্ষক নিয়োগ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ৩ আগস্টের পূর্বের বৈঠকে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের আলোচনা উঠলে শিক্ষার্থীরা ঢাকা, জগন্নাথ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ জানান।
প্রকাশ: · আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:০২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানী ঢাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে এই সভাটি সম্পন্ন হয়। সভায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষক নিয়োগের স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত গত ৩ আগস্টের বিতর্কিত রেজুলেশন বা সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে আগের মতোই বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগের সার্বিক ব্যবস্থা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এনটিআরসিএ-এর এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা—এই তিনটি ধাপই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছিল যে, এনটিআরসিএ আর এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শিক্ষক সুপারিশ করবে না। পরিবর্তে ১৮তম নিবন্ধনে সফল হওয়া ৯৮৪২ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল।
৩ আগস্টের ওই সভার কার্যবিবরণী বা মিনিটসের সিদ্ধান্ত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর পরই দেশের সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে দেশের প্রধান কয়েকটি উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জোরালো আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
শিক্ষার্থীদের এই লাগাতার প্রতিবাদ এবং উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে অবস্থান পরিবর্তন করে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের নতুন বৈঠকে আগের বিতর্কিত সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়। এর ফলে শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির এখতিয়ার থাকছে না এবং এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় ও মানসম্মত পরীক্ষার মাধ্যমেই যোগ্য প্রার্থীরা নিয়োগের সুযোগ পাবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নতুন সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা রক্ষা এবং যোগ্য প্রার্থীরা তাঁদের অধিকার ফিরে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এনটিআরসিএ-এর পূর্বের নিয়মে পরীক্ষাভিত্তিক এই শিক্ষক নিয়োগ বজায় থাকায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা ও আস্থার পরিবেশ বজায় থাকবে।








