বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিদের মূল্যায়নে অভিন্ন কেপিআই কাঠামো
বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডিদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের একটি অভিন্ন কেপিআই কাঠামো প্রবর্তন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ রোববার ঢাকায় এই নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়। এই মূল্যায়নের ফলের ওপর ভিত্তি করে এমডিদের নিয়োগ, পুনঃনিয়োগ ও বেতন-ভাতা নির্ধারিত হবে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:৩২· ১ মিনিট পড়া

দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের জন্য একটি অভিন্ন কেপিআই (মূল কর্মদক্ষতা সূচক) কাঠামো প্রবর্তন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ রোববার রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক এই নতুন ও যুগোপযোগী নির্দেশনা জারি করে। এর মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো এবং সুশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই নির্দেশনার আওতায় এখন থেকে প্রতিটি ব্যাংকের এমডিদের কর্মদক্ষতা ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি বা ক্ষেত্রের আলোকে এই কেপিআই মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে। ব্যাংক খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও সুদৃঢ় করতে এই মূল্যায়ন পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘোষিত কাঠামো অনুযায়ী, মূলধন অনুপাত, আপৎকালীন তারল্য বা ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতার ওপর মোট ২৫ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি মজবুত রাখতে এই সূচকটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে। একইভাবে খেলাপি ঋণ কমানো, অবলোপনকৃত ঋণ পুনরুদ্ধার এবং শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার কাছে ঋণ কেন্দ্রীভূতকরণের মতো বিষয়গুলোতেও আরও ২৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনের পরিপালন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ নীতিমালা অনুসরণ, আইসিটি নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও ২৫ নম্বর রাখা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা ও আইনকানুন কঠোরভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতেই এই সুনির্দিষ্ট নম্বরগুলো বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে সিএমএসএমই, কৃষি, গ্রিন ফাইন্যান্স, ডিজিটাল সেবার প্রসার, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং গ্রাহক অভিযোগ নিষ্পত্তির হারে মোট ১৫ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অর্জিত মুনাফা এবং পরিচালন ব্যয়ের দক্ষতার ওপর বাকি ১০ নম্বর মূল্যায়ন করা হবে। এভাবে সর্বমোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে এই কেপিআই মূল্যায়ন পরিচালিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই কাঠামোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এর ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে এমডিদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার। এই মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতেই মূলত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এমডিদের নিয়োগ, পুনঃনিয়োগ, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং তাদের বেতন-ভাতা ও প্রণোদনা নির্ধারিত হবে। ফলে ব্যাংক পরিচালনায় এমডিদের জবাবদিহিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে যে, প্রতিটি নির্দিষ্ট সূচকে এমডিদের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। যদি কোনো এমডি এই নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে ওই সূচকে শূন্য নম্বর প্রদান করা হবে। কঠোর এই শর্তের ফলে ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে এমডিদের দক্ষতা ও কর্মতৎপরতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।








